
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
লালমনিরহাটের বুড়িমারিতে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলের দেহাবশেষ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্তনা দিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্বা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বস্তা বন্দি করে তার লাশের কিছু অংশ সেখানে নিয়ে আসা হয়।পরিচয় সংক্রান্ত কাগজপত্রে ভুল থাকার কারণে রাতে তার দেহাবশষের নমুনা সংগ্রহ হয়নি। আজ শনিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করবে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবে। পরে সেগুলো তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত হবে কখন তাকে দাফন করা হবে। অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টায় নিহতের বাড়ি রংপুর মহানগরীর পুর্বশালবন এলাকার নবী ভিলাতে আসেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মাহমুদ। তারা স্বজনদের প্রতি সমবেদনার পাশাপাশি জুয়েলের সম্পর্কে পরিবারের লোকজনের কাছে বিস্তারিত অবহিত হন।
পরে ডিআইজি উপস্থিত দেবদাস ভট্রাচার্য সাংবাদিকদের জানান, আমরা পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য এসেছিলাম। আর মামলা হচ্ছে। যারা অপরাধী তোদের গ্রেফতার করা হবে। এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এখনই সব কিছু আমরা বলছি না।
অন্যদিকে উপস্থিত সাংবাদিকদের মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান. ঘটনার শিকার ব্যাক্তি রংপুর মেট্রোপলিন এলাকার হলেও ঘটনাস্থল যেহেতু মেট্রোপলিটনের বাইরে।সেকারণে ফেসবুক এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি। এটা কোন পরিকল্পিত ঘটনা নয়, এটা তাৎক্ষণিক এবং স্রেফ গুজবের উপর ভিত্তি করেই এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমার ধারণা এবং আমরা যা জানতে পেরেছি।তিনি বলেন,এই নৃশংস হত্যাকান্ডটির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পুলিশ তাদের খুঁজে বের করবে এবং যারা অপরাধ করেছে তারা আইনের আওতায় আনবে। তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ রেখেছি।আমাদের অফিসাররা তাদের খোঁজ খবর নিয়েছে। এবং আমরা তাদের পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্বা নিশ্চিত করার সকল ব্যবস্থা নিয়েছি।
প্রসংগত, শুক্রবার সন্ধ্যায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পাটগ্রামে পিটিয়ে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান মানসিক ভারসম্যহীন আবু ইউসুফ মোঃ সহিদুন্নবী জুয়েলকে(৫১)। সজুবায়ের সুমন (৪৭) নামের এক দলিল লেখক বন্ধুকে সাথে নিয়ে পাটগ্রাম গিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় সুমন বেঁচে যান। অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে পুলিশী পাহাড়ায় লালমনিরহাট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.