
রংপুর অফিস:
রংপুরে টানা ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা পাড়ের বন্যা কবলিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে।
পীরগাছার ২টি ইউনিয়ন, কাউনিয়ার ৪টি ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে প্রবেশ করছে বন্যার পানি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছেন।
[caption id="attachment_35018" align="aligncenter" width="600"]
রংপুরে তিস্তা নদীর পানি সীমার উপরে, পানিবন্দি ৫০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ[/caption]
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫টি বাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ শত শত ঘরবাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ড দুর্গম চরাঞ্চলের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।
গঙ্গাচড়ার লক্ষীটারি ইউনিয়নের পশ্চিম বাগেরহাট এলাকায় কয়েকশ’ বাড়িঘর ডুবে গেছে। ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে রাস্তাঘাট ও জমির ফসল। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
পশ্চিম বাগেরহাট এলাকায় সোলেমান মিয়া বলেন,এক সপ্তাহ ধরে বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় রাস্তায় বাস করছি। অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটছে।সরকারিভাবে কোনও ধরনের সহযোগিতা পাইনি।
তিস্তা নদীর পানি গত পাঁচ দিন ধরে বাড়ছে। গত বুধবার থেকে তিস্তা নদীর পানি গঙ্গাচড়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে উপজলার ছয়টি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম দুই থেকে তিন ফুট পানিতে বন্যা কবলিত হয়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিনবিনিয়াচরের পশ্চিমপাড়ায় ডান তীররক্ষা বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে বাঁধ, বাঁশঝাড়, জমি ও বসতবাড়ি। গত তিন দিনে ২৫টি বাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে, লোকজন বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাচ্ছে না।
লক্ষীটারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি জানান, বেড়িবাঁধে ভাঙনের ফলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে হু হু করে বাড়িঘরে তিস্তা নদীর পানি প্রবেশ করছে। এলাকায় কয়েক শ’ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তা ভেঙে গেছে লক্ষীটারি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের।
লক্ষীটারি ইউনিয়নের ইউনিয়নের সদস্য মানিকা বেগম বলেন, গতএক সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীতে পানি বাড়ছে সাথে চলছে ভাঙনও। পানি যদি আরও বাড়ে তাহলে এই এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে আজকে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ভাঙ্গন কবলিত কোলকন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া চর ও লক্ষীটারি ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতির মুখে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। তাদেরকে উঁচু স্থানে যেতে বলা হয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বেড়ি বাঁধের বাইরে ভাঙনের খবর পাওয়া গেলে জিওব্যাগ দেওয়া হচ্ছে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.