
রংপুর অফিস:
রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে রোববার সন্ধ্যায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে পিঠা উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান। ৩০ টি স্টল নিয়ে ৫ দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গত ৫ দিনব্যাপী এই উৎসবে ২০ লাখের অধিক টাকার পিঠা বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পিঠা উৎসবে শহিদ মিনারের পাদদেশে আয়োজন করা হয়েছিলো একাতে বাজানো একতারার মৃদু সুরের বন্যা আর নুপুরের ঝংকার রংপুর অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় পিঠা উৎসবের সমাপনী আয়োজন। ভাওয়াইয়া গান, গানের সাথে নৃত্য, অভিনয়, পিঠা পার্বণের আলোচনা। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি উৎসবকে আরো জমিয়ে উঠে।
নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পিঠা পার্বণকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রংপুরে ৫ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব। প্রত্যেকটি স্টলে বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক প্রকারের ছিলো পিঠার পসরা।
পিঠা উৎসবের আহবায়ক নাট্যাভিনেতা বিপ্লব প্রসাদ বলেন, আয়োজনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পিঠা প্রিয় মানুষ এসেছেন। নতুন প্রজন্মের অনেকেই উৎসাহ নিয়ে এসেছেন, পিঠা খেয়েছেন।আমরা মনে করি নিয়মিত পিঠা উৎসব আয়োজনে ফাস্টফুডের চাহিদা কমবে। বাড়বে পিঠা পার্বনের চাহিদা।মাত্র ৩০টি স্টলে ২০ লাখেরও বেশি টাকার পিঠা বিক্রি হয়েছে।
শহিদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে আয়োজিত গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর সিটি এসবি প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।পিঠা উদযাপন পরিষদের সদস্য মাহবুব রহমানের সভাপতিত্ব আলোচক ছিলেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক বিপ্লব প্রসাদ,শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আল আমিন।
সমাপনি অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়। কিন্তু করোনার কারনে দেরিতে হলেও রংপুরের এই পিঠা উৎসব মানুষের মাঝে নতুন করে আলোর সঞ্চার করেছে। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।যা লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।পিঠা উৎসবে এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা দেখা গেছে। প্রতিবছর পিঠা উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পিঠা উৎসব ২০২২ এ অংশ গ্রহণকারী ৫ জন ও ১ জন সেরা পিঠা শিল্পীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি। মেলায় সেরা পিঠা শিল্পী হয়েছে বৃষ্টি সুটকেস, ড্রিমার শপ, নেপালি মম, আনকোরা শৈলী, ইচ্ছে পূরণ।মেলায় বিশেষ স্বাদ ও বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠা তৈরি করে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে রিক্তা প্রসাদ।পাটিসাপটা, কুশলি, ভাপা, ভাত পিঠা, কাটা পিঠা, নকশি, পুলি, দুধ পিঠা, লাউ পায়েস, পক্কন, ছিট পিঠা, লবঙ্গ পিঠা, গোকুল, চিতোই, পাকানো, পাকোয়ান, রসপুলি পিঠা সহ শতাধিক রকমের পিঠা ছিল স্টল গুলোতে।
লোকজ এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাঙালির পিঠা পার্বনের আনন্দধারায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ রংপুর বিভাগ।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.