
রংপুর অফিস:
এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পর অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রংপুরের সাহেবগঞ্জ বিএম কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল বুধবার রাতে প্রবেশ পত্রের দাবিতে নগরীর সাহেবগঞ্জ-হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বলে আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিয়াম কলেজের পাশে সাহেবগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সাহেবগঞ্জ বিএম কলেজের ১২৫ জন শিক্ষার্থী প্রত্যেকে তিন হাজার একশ টাকা করে দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ডে টাকা জমা করেনি। এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ আইনুল হক বেশ কয়েকদিন ধরে পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদানের কথা বলে আসছিলেন। গত বুধবার দিনভর শিক্ষার্থীদের কলেজে বসিয়ে রাখেন তিনি।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে তাদের কারোরই প্রবেশপত্র আসেনি। বোর্ডে কিছু সমস্যা হয়েছে সে কারণে তাদের বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে অধ্যক্ষ পালিয়ে যান। ঘটনার প্রতিবাদে এবং তাদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দানের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে অভিভাবকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে রংপুর-হারাগাছ ও সাতমাথা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
হারাগাছ থানার ওসি শওকত হোসেন বলেন বিষয়টি শোনার পরপরই আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। শিক্ষার্থী অভিভাবকের শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ওই কলেজের অধ্যক্ষসহ কাউকে পাওয়া যাচ্ছেনা। পুলিশ তাদের খুঁজছে। অধ্যক্ষকে পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
পরে মধ্যরাতে তাদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক পরিচালক মো. নাহিদ হোসেন ও রংপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ ডাবিøউ এম শাহ আবু রায়হান। এরপর সড়ক ছেড়ে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক পরিচালক মো. নাহিদ হোসেন জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন করার জন্য বিয়াম কলেজের অধ্যক্ষসহ যেসব শিক্ষক দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায় সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা দিতে পেরে সরকার ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.