
রংপুর অফিস:
রংপুরে বৃষ্টির জন্য দুই রাকাত ইস্তেকার নামাজ আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেছেন হাজারো মুসল্লিরা। স্মরণকালের অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ স্বস্তির বৃষ্টির আশায় নামাজ শেষে আল্লাহর নিকট বিশেষ মোনজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় রংপুর জেলা সম্মিলিত ইমাম পরিষদের আয়োজনে নগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ্ মাঠে এই নামাজ আদায় করা হয়েছে। এতে ইমামতি করেন কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন।
আগামীকাল বুধবার এবং পরদিন বৃহস্পতিবারও এ মাঠেই একই সময়ে এই নামাজ আদায় করা হবে। এতে সকলকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত ইমাম পরিষদ।
বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় শেষে শুরু হয়েছে শ্রাবণ। এখনো দেখা নেই বর্ষার। নেই কালো মেঘের ডাকাডাকি। প্রখর রোদের তাপ আর গরমে বর্ষণের গর্জন শুন্য মেঘ। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে চৈত্র-বৈশাখের মতো দাবদাহে মানুষ সহ প্রানী কলের অবস্থা নাকাল হয়ে পড়েছে। যেন এক পরসা বৃষ্টি আর শীতল প্রকৃতির আকুতি সবার মনে।প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভরা বর্ষার এই মৌসুমে মৃদু দাবদাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। স্মরণকালের অসহনীয় গরম আর তাপ দাহে মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ছটফট করছে পশুপাখি ও জীবজন্তু। কড়া তাপদাহে ফসলি জমি শুকিয়ে গেছে। ব্যহত হচ্ছে আমন ধানের চারা রোপণসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ।এপরিস্থিতিতে খরা ও অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে সকালে এস্তেসকার নামাজ আদায় করেছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে অব্যাহত অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তির জন্য ও আল্লাহর রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় দু হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার দরবারে বৃষ্টির জন্য হু-হু করে কাঁদতে থাকেন নামাজে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষজন।
নামাজে অংশ গ্রহণ করা মুসল্লি বাব্বি হাসান বলেন, আমার বয়সে এমন অনাবৃষ্টি দেখিনি। এবার প্রথম এরকম তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে বাসা থেকে বের হতে পারিনি।আজকে এই নামাজ পড়তে মাঠে এসেছি। আগামী দুদিন ও আসব ইনশাআল্লাহ।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখা নেই। আষাঢ় শেষে শ্রাবণ শুরু হয়েছে স্বস্তির বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি ও স্বস্থির বৃষ্টির জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছি আল্লাহর নিকট।
বিশেষ এ নামাজ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা শেষে সম্মিলিত ইমাম পরিষদের সভাপতি ও কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন বলেন, আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা চেয়েছি। তাঁর কাছেই আমরা অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি চেয়েছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং তিনিই চাইলে গরম ও তাপদাহ থেকে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে ২০২০ সালে জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ৮০৪ মিলিমিটার। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক শূন্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরের বছর ২০২১ সালে বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৬ মিলিমিটার, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২২ সালের চলতি মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১৭ মিলিমিটার। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ম ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়টাতে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত ১৪ দিনে রংপুর বিভাগে রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস মৌসুমের এ সময়টাতে স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি তাপমাত্রা বাড়লেও তা ২ থেকে ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হবার কথা নয়এ বছরে আবহাওয়ায় এর ব্যতিক্রম ঘটেছে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.