
রংপুর অফিস:
রংপুর সিটি করর্পোরেশন নগরীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্রাম্যমাণ করোনার টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কার্যক্রম গতকাল সোমবার চালু করেছে নগরীর পুর্ব খাসবাগ এলাকায়।
সিটিকর্পোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা মোটর সাইকেলের পেছনে করোনার টিকা নিয়ে ছুটছেন। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে নিভৃত পল্লীতে গিয়ে তাঁরা মানুষকে করোনার টিকা দিচ্ছেন।সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার এই ভ্রাম্যমাণ করোনার গণটিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোগ নগরীতে বেশ সাড়া ফেলেছে।
রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সিটি করর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করর্পোরেশনের ২০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় করোনার টিকাকেন্দ্র আছে মাত্র ছয়টি।অনেক দূর-দূরান্তের মানুষ টিকাকেন্দ্রে যেতে চান না। টিকাকেন্দর দূরত্বের কারণে কেউ যেন করোনার টিকার আওতার বাইরে না থেকে যায় এজন্যই ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কার্যক্রমগতকাল সোমবার থেকে চালু করা হয়েছে।
প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর্মীদের চারটি দল করোনার টিকা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন। সুরক্ষার অ্যাপের মাধ্যমে মুঠোফোন নম্বর দিয়ে অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করে সেখানে টিকা দেওয়া হবে। অনলাইনে টিকার নিবন্ধন কিংবা খুদে বার্তার অপেক্ষায় থাকতে হয় না বলে মানুষ আগ্রহ নিয়ে টিকা নিতে আসছেন। এ কর্মসূচির কারণে রংপুর সিটি এলাকার বাইরের অনেক মানুষ এসে টিকা নিচ্ছেন ।গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর পূর্ব খাসবাগ এলাকায় টিকা দেওয়া হয়েছে।
রংপুর সিটি করর্পোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী সুজন ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছেসেবককে সঙ্গে নিয়ে করোনার টিকা দিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জনগণকে টিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁদের এ কার্যক্রমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুব সহজ হওয়ায় মানুষ নিজ ইচ্ছায় এসে টিকা দিচ্ছেন। আর মানুষের মুখে মুখে প্রচার হওয়ায় তাঁরা কোনো এলাকায় গেলেই মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন।
করোনার টিকা গ্রহন কারী আঁখি বেগম (৩৭) বলেন, নানা সমস্যা থাকার কারণে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া হয়নি।এসুযোগ আর হাতচাড়া করলাম না।প্রথম ডোজের টিকা নেওয়া রেজোয়ানা বেগম(৪০) ও নুরুন্নবী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে এত দিন টিকা নিতে পারেননি। তবে এবার সিটি করর্পোরেশনের লোকজন বাড়ির সামনে এসে খুব সহজেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
রংপুর সিটি করর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাজ জানান, বাড়ির কাছে টিকাকেন্দ্র না থাকায় অনেক মানুষ টিকা গ্রহনের আওতায় আসেনি। অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে অনেকেই এখনো প্রথম ডোজের টিকা নেননি। প্রথম ডোজের টিকা থেকে কেউ যেন বাদ না পড়েন একারনে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছেসেবক পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ দল পাঠানো হচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।তিনি জানান পরিক্ষা মুলক অভিযানে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁরা ৬ হাজার ১৭৩ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজেদের উদ্যোগে এই টিকাদান কার্যক্রমের ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.