
অনলাইন ডেস্ক:
রংপুর প্রেসক্লাবে প্রশাসকের মাধ্যমে অবৈধভাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন আদালত। গত ২৪ জুলাই রংপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক ফারহানা খান এক আদেশে বলেন, বিষয়টি হাইকোর্টে রীট পিটিশন হিসেবে বিচারাধীন থাকায় প্রশাসকের সদস্য অন্তর্ভুক্তির পদক্ষেপ পরবর্তীতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষের আবেদনে উপস্থাপিত তথ্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ পদক্ষেপে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসকের পক্ষে কোনও আপত্তি না থাকায় এবং বিবাদীপক্ষের ক্ষতির সম্ভাবনা কম বিবেচনায় প্রশাসককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সদস্য অন্তর্ভুক্তি থেকে বিরত থাকার আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রংপুর প্রেসক্লাব একটি পেশাজীবী সংগঠন, যা নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুসারে পরিচালিত হয়ে আসছে। দুই বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন হয়। কিন্তু কিছু বিতর্কিত ও বহিষ্কৃত ব্যক্তি অবৈধভাবে সদস্যপদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠলে সমাজসেবা অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি তত্ত্বাবধায়ক কমিটি এবং পরে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমান প্রেসক্লাব কমিটির দাবি, সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রেসক্লাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পেশাজীবী সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। সংগঠনটি ৩৩ বছর আগে নামমাত্র একটি রেজিস্ট্রেশন পেলেও এরপর কখনো নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, এমনকি সমাজসেবা অধিদপ্তর কখনও কোন নির্দেশনাও দেয়নি।
বর্তমান প্রশাসক গত ১৩ মে সাধারণ সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন, যা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবৈধ বলে দাবি করে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৭ দিনের মধ্যে প্রশাসককে কারণ দর্শাতে বলা হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও লিখিত আপত্তি দাখিল করেননি।
এর প্রেক্ষিতে আদালত সদস্য অন্তর্ভুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মাহে আলম বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এ ধরনের হস্তক্ষেপ একটি স্বাধীন পেশাজীবী সংগঠনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আদালত প্রেসক্লাবের পক্ষে দাখিল করা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, প্রশাসকের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, মাদকাসক্তি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমন ব্যক্তিদের সদস্যপদ দেওয়া হলে সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও রংপুর শহরের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হবে। তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.