[caption id="attachment_1036" align="aligncenter" width="904"]
ছবি- সংগৃহীত[/caption]
মিঠাপুকুর২৪নিউজ ডেক্স
প্রয়োজন না থাকার পরও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের জন্য (রমেক) ব্যবহার অনুপযোগী ও নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী কিনে সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ নুর ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে রমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নুর ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির মালিক মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, মো. আহসান হাবিব, ইউনিভার্সাল ট্রেড কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুর রহমান এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন চন্দন।
মামলার বাদি দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান। রংপুর দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল বাছেত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রমেকে ভারি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্রয়োজন না থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন ব্যতীত এসব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য রমেক অধ্যক্ষ বিধি বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। তিনি যথাযথ চাহিদা ও স্পেসিফিকেশন ছাড়াই দরপত্র আহবান করেন এবং ২৩ জুন তারিখে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানিকে’ কার্যাদেশ দেন।
২৭ জুন কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য রমেক অধ্যক্ষ তাদের দাখিল করা বিল পাস করেন। প্রশাসনিক অনুমোদনসহ ব্যয় মঞ্জুরি পাওয়ার আগেই বিল স্বাক্ষর করে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে দাখিল করেন।
রমেক অধ্যক্ষ এভাবে ওই কোম্পানির মালিক মো. জাহের উদ্দিন সরকারকে চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন। দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ও দরপ্রস্তাব দাখিলকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী যথাক্রমে মো. আব্দুস সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিন সরকারের বাবা) ও আহসান হাবীব (জাহের উদ্দিন সরকারের ছেলে) এবং ইউনিভার্সাল ট্রেড কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিন সরকারের বোন জামাই) পরিচয় গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে সাজানো দরপত্র দাখিল করেন। তারা কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে এই সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন একাই বাজার দর কমিটি, দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও সার্ভে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নন-ক্লিনিক্যাল কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি চারটি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রংপুর দুদক কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সূত্রঃ- ইত্তেফাক অনলাইন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.