
নিউজ ডেস্ক:
লালমনিরহাটের ঈমাম হোসেন ইমু পড়েন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বছর তিনেক আগে পরিচয় হয় বরগুনার এক তরুণীর সঙ্গে। ফোনালাপ থেকে ফেসবুক চ্যাটিং, এরপর চলতে থাকে প্রেম। অবশেষে তিন বছর পর বিয়ে। এরপর নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
সেই সূত্র ধরেই স্বামীর স্বীকৃতি আর স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় হাজির হয়েছেন সেই তরুণী। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় লিখিত অভিযোগ করেন হাতীবান্ধা থানায়।
তরুণীর অভিযোগের আলোকে পুলিশ জানায়, তিন বছর আগে ফেসবুকে বরগুনা সদর উপজেলার চরকলোনী এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাংগা ইউনিয়নের ইব্রাহিম হোসেন খলিফার ছেলে ঈমাম হোসেন ইমুর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেম। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মেয়েটির বরিশালে বসবাসকারী খালার বাসায় তাদের বিয়ে হয়।
মাস ছয়েক ঘর সংসার করার পর তারা চলে যান ঢাকায়। সেখানে ভালোই চলতে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবন। ভাড়া বাসায় থাকেন পাঁচ মাস। সেখানে বসবাসের দুই মাসের মাথায় গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই তরুণী। সুকৌশলে তার গর্ভপাত করান স্বামী ঈমাম হোসেন ইমু। এরপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই তাদের মাঝে শুরু হয় মতবিরোধ, যা মারাত্মক তিক্ততায় রূপ নেয়। এ অবস্থায় স্ত্রীকে ঢাকায় একা রেখেই নিজেকে আড়াল করেন ইমু। চলে যান নিজের গ্রামে।
এদিকে, ঢাকায় স্বামীর সন্ধান না পেয়ে কঠিন সমস্যায় দিন পার করতে থাকেন ওই তরুণী। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঈমাম হোসেন ইমুর টংভাংগা গ্রামে চলে যান তিনি। ঠিকানা খুঁজে বের করে সরাসরি উঠে পড়েন স্বামীর বাড়িতে। এরপর ইমুর বাবা মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় না দিয়ে পাশের গ্রামে তার বড় ছেলের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর তার ওপর নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। চলতে নাকে অমানবিক আচরণ। তারা সাফ মেয়েটিকে জানিয়ে দেয় এসব কথা এলাকায় কোনো ব্যক্তিকে না জানিয়ে ফিরে যেতে হবে তাকে তার ঠিকানায়। এতে রাজি না হলে দুর্ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যায়। তারা মেয়েটিকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকিসহ নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় স্বামী ইমুসহ পরিবারের লোকজন। তারা ওই তরুণীকে তিন লাখ টাকা যৌতুকের আল্টিমেটাম দিয়ে জোরপূর্বক একটি বাসে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। বলা হয় তিন লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে গেলে তাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেবে তারা।
হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রেম-বিয়ে-নির্যাতন-যৌতুকসহ সব কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আঙ্গুর মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েসহ, স্থানীয় একজন সাংবাদিক ও একটি সংগঠনের একজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ঈমাম হোসেনদের বাড়িতে যাই। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর ইমুর বাবা বিষয়টি নিয়ে আপস মীমাংসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে কয়েক দিনের সময় চাইলে আমরা সময় দেই। এতে কোনো ভালো সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.