
অনলাইন ডেস্ক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনায় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনা চলাকালে স্থানীয়দের দিক থেকে ৯টি গুলির শব্দ শোনা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের ঝামেলা হয়। ঐ ঝামেলা মিটমাট করার জন্য শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আলোচনা চলাকালে আবার কথা কাটাকাটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে গেরুয়া বাজারের একটি ভবনে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে মারধর করেন।
এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল, কার্যনির্বাহী সদস্য এলেক্সসহ তিনজন আহত হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঁচটি মোটরবাইক ভাঙচুর করে স্থানীয়রা।
এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গেরুয়া এলাকার প্রবেশ মুখে জড়ো হয়। রাত এগারোটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলছে। পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
রাত আটটার দিকে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যরত ডা. মাহফুজুল কবীর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছি। তারা মাথা, হাত, পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম পেয়েছে। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পাঁচজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এর মধ্যে গেরুয়া এলাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকেন বলে জানা গেছে। গেরুয়া এলাকার মেস ও বাসাবাড়িতে এখনো অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আছেন বলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের শান্ত রেখেছি। পুলিশের প্রতি আহ্বান, তারা যেন স্থানীয়দের শান্ত রাখেন।’
উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের বাইরে প্রক্টর ও নিরাপত্তাকর্মীদের কিছু করার নেই। আমি পুলিশ পাঠানোর জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কথা বলছি।’ সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.