
অনলাইন ডেস্ক:
পঞ্চগড়ে তিন চিতাবাঘের বিচরণ আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না কয়েক গ্রামের মানুষ। বাঘের আক্রমণ ঠেকাতে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এলাকা। বসে নেই প্রশাসনও। এরইমধ্যে বাঘগুলোকে বন্দি করতে প্রস্তুত করা হয়েছে খাঁচা। পাশাপাশি জঙ্গলে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা বাঘ তিনটি ধরতে চা বাগান ও জঙ্গল কাটার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গ্রামবাসী ও প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত দেখা মেলেনি বাঘের।
জেলার সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপির মুহুরীজোত ও সাহেবীজোত এলাকার চা বাগান ও জঙ্গলে দুই বাচ্চাকে নিয়ে একটি চিতাবাঘ অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল থেকে ওই চা বাগান ও জঙ্গল কাটা শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাসখানেক আগে বাঘগুলো সীমান্তবর্তী একটি ব্রিজের নিচ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর পর থেকে সেই চা বাগানেই বসবাস শুরু করে। এর পর গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি গরুর ওপর হামলা করলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সবার মধ্যে বাঘ আতঙ্ক শুরু হয়। এরপর ওই এলাকার কেউ কেউ আকারে লম্বা ও গায়ে কালো ছাপ থাকা বাঘ ওই চা বাগানের পাশের জঙ্গলে দেখতে পান।
জঙ্গলসাতমেরা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, পঞ্চগড় সদরের ইউএনও মো. আরিফ হোসেন, তেঁতুলিয়ার ইউএনও সোহাগ চন্দ্র সাহা, সদর ও তেঁতুলিয়া থানার ওসি আবু আককাছ আহমেদ ও মো. জহুরুল ইসলামসহ বন বিভাগের লোকজন এসে ওই চা বাগান ও জঙ্গল কাটার নির্দেশনা দেন। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক আমার ইউপির সদস্য মো. মিন্টু কামাল ১৯ জন শ্রমিক লাগিয়েছেন। চা বাগান ও জঙ্গলটি খুবই ঘন হওয়ায় কাটতে সময় লাগছে। কবে নাগাদ কাটা শেষ হবে এটা বলা কঠিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুহুরিজোত গ্রামের শেষ প্রান্তের প্রায় চার একরের পরিচর্যাবিহীন জঙ্গলাকীর্ণ চা বাগান এলাকায় শত শত উৎসুক মানুষের ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে তারা বাঘ দেখতে এসেছেন। কেউ কেউ চা বাগানের ভেতরে ঢুকেও বাঘের দেখা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
[caption id="attachment_15788" align="aligncenter" width="949"]
বাঘ আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী[/caption]
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, বাঘগুলোকে জীবিত ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে টিম এসেছে। আশাকরি জঙ্গল পরিষ্কার করা হলে বাঘগুলোকে ধরতে আমরা সক্ষম হবো।
পঞ্চগড় সদরের ইউএনও আরিফ হোসেন বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাঘের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন। এলাকায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করা যায় সবার সহযোগিতায় বাঘগুলোকে আমরা ধরতে সক্ষম হবো। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.