
স্টাফ রিপোর্টার, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমলসহ সবক’টি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ৪র্থ দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলায়। অন্যদিকে প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবনে।
অবিরাম বৃষ্টির ফলে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব, উপজেলা মৎস অফিস, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, বিআরডিবি অফিস, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা কৃষি অফিস চত্তর একহাটু পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষজন।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া মুষুলধারা বৃষ্টিতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পাচ্ছেন না।
এনিয়ে উপজেলায় ৪র্থ দফায় কয়েক হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ১৯ শ ৫০ পরিবারের পানিবন্দির কথা জানালেও প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পানিবৃদ্ধিও কারণে প্লাবিত এলাকার মানুষজন গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস মূরগিসহ বেড়ী বাঁধ, উচু রাস্তা কিংবা ওয়াপদা বাধেঁ আশ্রয় নিয়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চর গোরকমন্ডল, চর পেচাই, বস্তি গোরকমন্ডল, ঝাউকুিিট, পশ্চিম ফুলমতি, কিশামত শিমুলবাড়ী, যতিন্দ্র নারায়ন, সোনাইকাজি, রোশন শিমুলবাড়ী, কবিরমামুদ, প্রানকৃঞ্চ, জোৎকৃঞ্চকরি, চর বড়লই, বাংলাবাজার, বড়ভিটা, চর ধনিরাম, ধনিরাম, খোচাবাড়ী, চর খোচাবাড়ী, রাঙ্গামাটি, ভাঙ্গামোর এলাকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চাতরার দোলা ও ভাতরিয়ার দোলার শতশত একর জমির রোপা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সেখানে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। বড়ভিটার পাশে সারোডোব ও সোনাইকাজি এলাকায় প্রবল পানির স্রোতে ধরলার বেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে হুহু করে কাদা মিশ্রিত বন্যার পানি প্রবেশ করছে। ওই এলাকার রোপা আমন ক্ষেত ২ হাজার ৫০০ হেক্টর, সবজি ১৫০ হেক্টর ও অন্যান্য প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, লঘু চাপ ও মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এ এলাকায় ২৯০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা ও মাঝারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, রোববার সকাল ৯ টায় উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকায় শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান জানান, সার্বক্ষণিক বানভাসিদের খোজ খবর রাখা হচ্ছে। আপাতত পানিবন্দিদের জন্য কোন বরাদ্দ নেই। তবে পানিবন্দি প্রায় ২ হাজার পরিবারের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম২৪নিউজ/এসএ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.