
রংপুর অফিস:
রংপুরকে ইয়েলো জোন করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের (মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ) ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় মানুষের মধ্যে এখনও এই ঘোষণার কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি।
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলা হলেও রংপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা। খাবার হোটেল থেকে মাঠেপ্রান্তরে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে ঘোষিত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে নেই কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা।
জনসমাগম অধ্যুষিত এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা এবং মাস্ক ব্যবহারেও উপেক্ষিত হচ্ছে সরকারের নির্দেশনা। সংক্রমণ প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা জানাযায়, করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এর নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব এবং দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কার্যবলী/চলাচলে নিম্নোক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
রংপুর জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এখন পর্যন্ত রংপুরে তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। হাট-বাজার থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম চলছে না। সাধারণ মানুষ বলছে, প্রচার-প্রচারণা কম হওয়ায় অনেকেই সরকারের নতুন বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবগত নন।
এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় রংপুর বিভাগে প্রতিদিন বাড়ছে শনাক্তের হার। গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরে নতুন করে ৯ জন সহ বিভাগের আট জেলায় ১৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আজ শুক্রবার ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেসবার্তায় গেছে, গতকাল পর্যন্ত দিনাজপুুর জেলায় ১৪ হাজার ৯শ’ ৫৪ জন আক্রান্ত ও ৩৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৬শ’ ২০ জন আক্রান্ত ও ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় ৭ হাজার ৭শ’ ৮ জন আক্রান্ত ও ২৫৬ জনের মৃত্যু, গাইবান্ধা জেলায় ৪ হাজার ৮শ’ ৮৭ জন আক্রান্ত ও ৬৩ জনের মৃত্যু, নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ৬৯ জন অক্রান্ত ও ৮৯ জনের মৃত্যু, কুড়িগ্রাম জেলায় ৪ হাজার ৬শ’ ৫৩ জন আক্রান্ত ও ৬৯ জনের মৃত্যু, লালমনিরহাট জেলায় ২ হাজার ৭শ’ ৭৪ জন আক্রান্ত ও ৬৯ জনের মৃত্যু, পঞ্চগড় জেলায় ৩ হাজার ৮শ’ ৩৮ জন আক্রান্ত এবং ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর বিভাগের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এবং কয়েকটি স্থলবন্দর থাকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সীমান্তের জেলাগুলো। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বন্দর গুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ থাকলেও প্রতিদিন হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী যান চলাচল করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বুড়িমারী, হিলি এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ২৪ জন ভারত ফেরৎ মানুষ প্রবেশ করেছে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটসহ ৬ জেলা রয়েছে।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ হিরম্ব কুমার রায় বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে রংপুরকে ইয়েলো জোন ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণে সবাইকে আহ্বান করছি। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রংপুর জেলায় করোনা সংক্রমণ শুরুর প্রথম ঢেউ থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৬১২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ জেলায় ৭৪ হাজার ৬৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.