
রংপুর অফিস:
সারাদেশে করোনায় হোটেল সহ সব কিছু বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের ৮০টি কোল্ড স্টোরেজ ৫০ শতাংশ আলুই পড়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। এর ফলে রংপুর বিভাগের হিমাগারে শেডভর্তি আলু পড়ে আছে। তাই সংরক্ষিত আলু দুই মাসের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশংকা করছেন রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকরা।
রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগণ সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্ববান জানিয়েছেন। হিমাগার মালিকরা ‘হিমাগারসমূহে সংরক্ষিত আলুর সার্বিক পরিস্থিতি ও ২০২২ইং সংরক্ষন মৌসুমে করনীয়’’ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামত ব্যক্ত করেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না।
সংরক্ষিত আলু দুই মাসের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশংকা করছেন রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকরা। রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগণ সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার ২২ অক্টোবর সকাল ১০টায় রংপুর চেম্বারের উদ্যোগে ‘হিমাগারসমূহে সংরক্ষিত আলুর সার্বিক পরিস্থিতি ও ২০২২ইং সংরক্ষন মৌসুমে করনীয়’’ বিষয় নিয়ে রংপুর বিভাগীয় হিমাগার মালিকগণের এক মত বিনিময় সভা রংপুর চেম্বার ভবনের আরসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিসিআই ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি, মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর কর্ণধর মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এছাড়া মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও বগুড়া জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইজাব গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইসতিয়াক আহমেদ, ইউনুছ গ্রæপের এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু।
অনুষ্ঠানে হিমাগার মালিকদের বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের এম রহমান কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূরুল মঈন মিনু, লালমনিরহাটের তিস্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকসুদ আহমেদ, ভরসা গ্রæপের পরিচালক ও আজিজুন নেছা কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক ভরসা, ঠাকুরগাঁও এর হাওলাদার কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম, কুড়িগ্রামের মোস্তফা হিমাগারের পরিচালক মোঃ জাহাংগীর আলম, নীলফামারীর মুক্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শরিফুল ইসলাম বাবু, রংপুরের ব্রাদার্স কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ একরামুল হক, বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ। ‘হিমাগারসমূহে সংরক্ষিত আলুর সার্বিক পরিস্থিতি ও ২০২২ইং সংরক্ষন মৌসুমে করনীয়’’ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামত ব্যক্ত করেন।
হিমাগার মালিকরা বলেন, সারাদেশে করোনায় হোটেলসহ সব কিছু বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের ৮০টি কোল্ড স্টোরেজ ৫০ শতাংশ আলুই পড়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। এর ফলে রংপুর বিভাগের হিমাগারে শেডভর্তি আলু পড়ে আছে। তাই সংরক্ষিত আলু দুই মাসের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশংকা করছেন রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগন। তাই রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগণ সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিসিআই ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি, মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর কর্ণধর জনাব মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, চলতি মৌসুমের আলু বাজারজাতকরণের আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যে সংরক্ষিত আলু বাজারজাত না হলে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত থাকবে। সেগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই তিনি ভর্তুকি দিয়ে হিমাগার মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম হওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের করতে এখন অনীহা দেখাচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরের মধ্যে ছয় বছরই লোকসান দিয়ে হিমাগার মালিকরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তাই তিনি হিমাগার মালিকগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি প্রতিটি জেলায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সংগঠিত করতে সংগঠন তৈরি করার আহ্ববান জানান।
মত বিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের আওতাধীন রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলার হিমাগারের মালিক-প্রতিনিধি ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.