
করোনা যদি আর কখনো না যায়। যদি আবিষ্কৃত না হয় করোনার কার্যকরী টিকা? তাহা হইলে কী উপায়? এমনই আশঙ্কার কথা শুনাইয়াছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে, কালক্রমে এই ভাইরাস এইচআইভির মতো মহামারির রূপ লইতে পারে। এই ক্ষেত্রে ৩৬ বত্সর পূর্বের একটি ঘটনা স্মরণ করা যাইতে পারে।
১৯৮৪ সালে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা-বিষয়ক মন্ত্রী মার্গারেট হেকলার সংবাদ সম্মেলনে বলিয়াছিলেন, এইচআইভি নামে নূতন একটি বিপজ্জনক ভাইরাস শনাক্ত হইয়াছে। ইহা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দুই বত্সরের মধ্যে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা যাইবে। অতঃপর তিন যুগ পার হইয়া গেলেও এইচআইভির ভ্যাকসিন অধরাই রহিয়া গিয়াছে। ভাইরাসটি ইতিমধ্যে বিশ্বের ৩ কোটি ২০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কাড়িয়া লইয়াছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেই আশঙ্কা ব্যক্ত করিয়াছে তাহা সত্য হইলে এইচআইভির চাইতেও করোনার অভিঘাত পৃথিবীর জন্য অনেক বেশি ভয়াবহ হইতে পারে। কারণ এইচআইভি সংক্রমণ যেইখানে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতিতে ছড়ায়, সেইখানে কোভিড-১৯-এর হাঁচি, কাশি বা কথা বলিবার সময়েও সংক্রমণ ছড়াইতে পারে। ফলে এইচআইভি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হইলেও করোনার সংক্রমণ অনিয়ন্ত্রিতই থাকিয়া যাইবে।
এই পৃথিবীতে অনেক ভয়ংকর জীবাণুর বিরুদ্ধেই ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হয় নাই। ইনফ্লুয়েঞ্জা জীবাণু একেক বত্সর একেক রূপ লইয়া হাজির হয়। যেই বত্সর যেই রূপটি থাকে, তাহার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু করোনার অনেক রূপ রহিয়াছে। এইচআইভিরও রহিয়াছে হাজারো ধরন। শুধু এইচআইভি নহে, বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো টিকা তৈরি করিতে পারে নাই, এমন রোগের মধ্যে রহিয়াছে ‘ডেঙ্গু’। ২০১৭ সালে ইহার একটি টিকা তৈরি করা হইলেও উহা এই রোগটিকে আরো জটিল করিয়া তোলে। সুতরাং করোনার যে কার্যকর টিকা আসিবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা কেহই দিতে পারিতেছে না। এখন করোনা কোনোদিন যাইবেও না, আবার টিকাও বাহির হইবে না! তাহা হইলে উপায় কী? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়াছে, এই ভাইরাসের স্থায়ী অস্তিত্ব স্বীকার করিয়াই সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন শুরু কৌশল লইয়া ভাবিতে হইবে।
সুতরাং বিগত দুই মাস ধরিয়া মানিয়া চলা স্বাস্থ্যবিধিগুলিকেই মনে হইতেছে আমাদের জীবনের অংশ হিসাবে মানিয়া লইতে হইবে। অর্থাত্ করোনা আমাদের আরো বেশি ভার্চুয়াল করিয়া দিতেছে। আমেরিকায় ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ হিসাবে কাজ করিতেছেন। ইউরোপের চিত্র তথৈবচ। কারণ কোনো উপায় খুঁজিয়া পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যে কোনোভাবেই হউক চালু করিতে হইবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের হিসাবমতে, দৈনিক ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি দুই মাস ধরিয়া বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহন করিতে হইতেছে। করোনার জের ধরিয়া বিশ্ববাসীকে যেই প্রবল মানসিক চাপ লইতে হইতেছে সেই দিকে অবিলম্বে প্রতিটি দেশকে বিশেষভাবে নজর দিতে হইবে। অন্যদিকে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য এবং শিশুদের ব্যাপারে সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। করোনা যেন বিপ্লব ঘটাইয়া এই বিশ্বকে স্থায়ীভাবে বদলাইয়া দিতে যাইতেছে।
সূত্র: ইত্তেফাক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.