
করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে প্রায় দেড় বছর ধরে বিরাজ করছে। করোনা আমাদের নানা ধরনের পরিস্থিতির মাধ্যমে জীবন ও জীবিকার চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। বর্তমানে করোনার সাথে আমাদের যুদ্ধ করতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে, তার উপর আবারো ডেঙ্গুর আবির্ভাব হ্ওয়ায় জন জীবন একেবারেই অতিষ্ট হয়ে পড়েছে, যা এক কথায় বলতে গেলে ”মরার উপর খাড়ার ঘা”।
এক দিকে প্রিয়জন হারাণোর বেদনা কেটে না উঠতে আবার যেন হারাণোর ভয়। রাজধানির বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী একদিনে প্রায় দেড় শতাধিক ডেঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে শিশুর পরিমানই বেশি। ঢাকার বাইরেও গাজীপুর, কুমিল্লা, এবং কুষ্টিয়া জেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গুজ্বর হলে সাধারনত চার-পাঁচ দিন পরে শরীরে লাল অ্যালার্জির মতো র্যাশ হতে পারে। তখন রক্তে প্ল্যাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়, যেটি হতে পারে মৃত্যুর কারণ।
বৃষ্টির পানি অনেক জায়গায় জমে থাকার কারণে এডিস মশার জন্ম হয়। বিশেষ করে ফুলের টবে, ফ্রিজে, ডাবের খোশায়,অব্যবহৃত টায়ারে ডেঙ্গু মশা বেশি পরিমাণে জন্মায়। যেহেতুব এসমস্ত জায়গায় বেশি জন্মায় তাই আমাদের সচেতন থাকা দরকার। রাজধানির বিভিন্ন এলাকায় সিটিকর্পোরেশনের উদ্যোগে মশক নিধনের ব্যবস্থা করে থাকেন। বর্তমান অর্থ বছরের বাজেটে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের জন্য মশক নিধনে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন সরকার। অনেক গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে সিটি কর্পোরেশন মোবাইলে বার্তা দিয়েছে। এরপরেও যদি তাদের স্থাপনায় পানি জমে এবং এডিস মশার লাভা পাওয়া যায় তাহলে উচ্চ হারে জরিমানা করা হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান সচেতন হচ্ছেন না। ফলে এডিস মশার ক্রমশ বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু সিটি কর্পোরেশন উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, সকল শ্রেণীর মানুষকে সচেতন থাকতে হবে যাতে করে এডিস মশা ব্ংশ বদ্ধি করতে না পারে। ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধ করার একমা উপায় হলো এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করা। আর তা করতে না পারলে, বাংলাদেশ ভয়ানক অবস্থার দিকে যাবে । ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়াভয় রূপ ধারণ করে ওই সময় এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আকান্ত হন। সাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ তথ্য মতে সে বছর ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এডিস মশা বংশ বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন স্থাপনায় যেন বৃষ্টির পানি না জমে সে জন্য ঢাকা শহরে ২০ টি মোবাইল টিম কাজ শুরু করেছে। প্রশ্ন হল তার পরেও যদি আমরা সচেতন না হই, আমাদের অবস্থান কোথায় দাড়াবে? আমাদের ডেঙ্গুর বিষয়ে আরো বেশি করে সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করোনার মতো পরিস্থিতিতে আর না পড়তে হয়। ডেঙ্গু মশার প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায় নয়, দায় রয়েছে সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি এবং সকল শ্রেণীর মানুষের।
লেখক: আব্দুর রহমান।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.