
অনলাইন ডেস্ক:
আমলকিঃ আমলকিতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি যা শরীরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বাড়ায়। চুল সুস্থ রাখে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমলকি হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে।
ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরাঃ এটি এমন একটি জনপ্রিয় ভেষজ, যা হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অ্যালোভেরা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে ও বয়সের ছাপ রোধ করে। এটি শুধু ত্বকের ক্ষত সারাতে নয়, এর আরও অনেক গুণ আছে। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণেও এটি কাজ করে।
থানকুনিঃ চিকিৎসা ক্ষেত্রে থানকুনির ভূমিকা অপরিসীম। এটি মেধা ও স্মৃতিশক্তিকে বাড়াতে সাহায্য করে, তারুণ্য ধরে রাখে, চুল পড়া কমায়। সপ্তাহে দুবার থানকুনি ও তুলসী পাতার মিশ্রণের (পেস্ট) সঙ্গে আমলকি মিশিয়ে ১০ মিনিট চুলে মাখলে চুল পড়া বন্ধ হয়। ক্ষতিকর টক্সিন দেহ থেকে অপসারণেও সাহায্য করে।
কাঁচা হলুদঃ একে ইন্ডিয়ান স্যাফরন বা গোল্ডেন স্পাইসও বলা হয়। এটি একটি প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ভেষজ। কাঁচা হলুদ হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। ব্যথানাশক ও ক্ষত নিবারক হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
হরিতকিঃ বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসা একটি ভেষজ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। চুল পড়া কমায়। ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সর্দি-কাশি ও ত্বকের অ্যালার্জি বা চর্মরোগের বিরুদ্ধেও কাজ করে।
তুলসীঃ দু-তিনটি তুলসী পাতার রস এক চা-চামচ মধুসহ খেলে হাঁপানি , ব্রংকাইটিস, ঠান্ডা লাগা, কাশি, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিস প্রভৃতি রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। কিডনির পাথর সারাতে ও মাথাব্যথা, দুশ্চিন্তা কমাতেও তুলসী পাতা সাহায্য করে।
জিরাঃ মশলা হিসাবে ব্যবহৃত হলেও এর রয়েছে অনেক ওষধি গুণ। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অপসারণে সাহায্য করে। জিরা পাকস্থলির হজমক্রিয়া বাড়ায়, লৌহের জোগান দেয়। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
রসুনঃ প্রতিদিন রসুনের একটি কোয়া খেলে তা হৃৎপিন্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
গাজরঃ এটি মূলত সবজি হিসাবে ব্যবহার হয়। এতে থাকে ভিটামিন এ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান। এটি ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।
লেবুঃ লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটা ওজন কমাতে ও চুল ঝলমল করতে সহায়তা করে। লেবু কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। পানিশূন্যতা মেটাতে এর জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া হজমে সহায়ক, সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রশমনে লেবুর ভূমিকা রয়েছে অপরিসীম।
পুদিনাঃ এটি একটি শীতল ভেষজ। বদহজম ও অগ্নিমান্দ্য দূর করে। এটি পিত্ত নিঃসরণ বাড়ায়। আইবিএসে (ইরিটেবল বয়েল সিনড্রোম) এটি ভালো কাজ করে। ঠান্ডারও প্রশমন ঘটায়।
বহেড়াঃ ত্রিফলার এক ফল এটি। বাকি দুটি আমলকি ও হরিতকী। বহেড়ার রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এটি শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। যকৃৎকে (লিভার) সুস্থ রাখে।
তিলঃ এটি আঁশসমৃদ্ধ ও নিরামিষ প্রোটিনের উৎস। যা রক্তচাপ কমায়, হাড় সুস্থ রাখে, প্রদাহ কমায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। মেনোপজের সময় হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
আনার বা ডালিমঃ পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল এটি। যার রয়েছে ভেষজ গুণও। এতে আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট ও পটাশিয়াম। এছাড়া এটি প্রদাহ, প্রস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কাজ করে। ডায়রিয়াতেও এটি ফলপ্রদ।
আদাঃ এটি মশলা হিসাবে ব্যবহার হলেও এর ভেষজ গুণ অনেক। এতে থাকা জিঞ্জিরল একটি শক্তিশালী ওষধি উপাদান। বমিভাব, বিশেষ করে সকালের দুর্বলতাভাব দূর করে। এটি পেশির ব্যথা কমায়। অস্টিও আর্থ্রাইটিসে ভালো কাজ করে।
অন্যান্য মশলার গুণাগুণ:
প্রতিদিনের খাবারে ব্যবহৃত মশলাগুলোর পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ রান্নায় ব্যবহৃত মশলায়ও রয়েছে নানা উপকারী খাদ্য উপাদান। ফলে মানবশরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং শরীরকে আরও বেশি কর্মক্ষম রাখতে এসব মশলাও কম-বেশি ভূমিকা রাখে। এ যাবৎকালে সন্ধান পাওয়া মশলার এই গুণের তালিকায় রয়েছেঃ
এলাচঃ ক্ষুধা বাড়ায় এবং এসিডিটি ,বদহজম, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমায়। এছাড়া শ্বাস কষ্ট ও কাশি নিয়ন্ত্রণেও কিছু মাত্রায় কার্যকরী।
দারুচিনিঃ ব্লাড সুগার কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও গলব্লাডারের ইনফেকশন রোধে দারুচিনি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লবঙ্গঃ দাঁতের যন্ত্রণা, কাশি, পেট ব্যথা, বমিভাব, অরুচি প্রভৃতি সমস্যার সমাধানে লবঙ্গ খুবই কার্যকরী।
জায়ফলঃ হার্ট ও লিভারকে সুস্থ রাখে এবং নিদ্রাহীনতা কমায়।
জয়ত্রীঃ ব্রণ এবং বমিভাব কমাতে জয়ত্রীর ভেষজ গুণকে কাজে লাগানো যায়।
গোলমরিচঃ সাইনাস, শুকিয়ে যাওয়া এবং খুশকির মতো শারীরিক সমস্যায় গোলমরিচ প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.