
বিশ্বপ্যাপী এখন চলছে করোনাকাল। প্রাণঘাতি এই করোনার তান্ডব থামছে না কিছুতেই। আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। যেহেতু এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রতিষেধক টিকা ও ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি, চেষ্টা চলছে, ততদিন নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো পরিপালন করাই আমাদের কর্তব্য। সেগুলোর মধ্যে প্রধানত- সাবান-পানি দিয়ে বার বার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। ০ মুখে মাস্ক পরা। ০ একজন আরেকজনের থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্বে থাকা। ০ যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলা। মোট কথা সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বারবার হাত ধোবেন কেনঃ হাত দিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত মুঠোফোন, টিভির রিমোট, দরজার হাতল, সিঁড়ির রেলিং, পানির কল, চেয়ার, টেবিল, চাবি, টাকা, কাঁচা মাছ-মাংস, সবজি ইত্যাদি কত কিছুই না ধরি। এসব জিনিসে লেগে থাকে অসংখ্য জীবাণু। হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলেও হাতে জীবাণু লেগে যায়। এরপর হাত না ধুয়ে খাবার তৈরি বা খাওয়া হলে মুখ -চোখ -নাক স্পর্শ করা হলে জীবাণু শরীরে ঢুকে যায়। সাবান দিয়ে নিয়মমতো হাত ধুলে যেকোনো জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। কাঁচা মাছ-মাংস ও পশু-পাখি স্পর্শ করলেও ভালো করে হাত ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি দিলে, আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে হাত ধুয়ে নিতে হবে। সাবান-পানির বিকল্পে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায়। তবে সাবান-পানি সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
সাধারণ সার্জিক্যাল ফেস মাস্কে করোনা প্রতিরোধ করা যায় এমন প্রমাণ না থাকলেও এন-৯৫ মাস্ক বাতাসের ৯৫ % শূন্য দশমিক ৩ মাইক্রন বা তারচেয়ে বড় কণা আটকাতে পারে। তাই বলে এটি পরলে করোনা ঠেকানো যাবে তা-ও নয়। কোভিড-১৯ রোগী এবং রোগীর পরিচর্যাকারী হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের মাস্ক পরাটা জরুরি।
সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি, কিংবা কথা বলার সময় মুখ থেকে নিঃসৃত তরল কণা বা ড্রপলেটের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে যেকোনো বস্তু বা তলে লেগে যায় করোনাভাইরাস। সে জায়গা স্পর্শ করলে হাত থেকে ভাইরাসটি নাক-চোখ-মুখ দিয়ে সুস্থ ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারে । তাই পারস্পারিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি । অন্তত ৩ ফুট দূরত্বে থাকতে হবে ।
করোনাভাইরাস নিয়ে নানারকম ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে । আমাদের মনে রাখতে হবে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি । নতুন এ ভাইরাসটি নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। করোনা বিষয়ে কী করবেন, কী করবেন না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা প্রতিদিনই তুলে ধরছে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এবং সেটাই সবার মেনে চলা উচিত । (সংগৃহীত)
এম২৪নিউজ/আখতার।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.