
অনলাইন ডেস্ক:
রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার বুক চিরে বয়ে চলা তিস্তা নদীকে বলা হয় পাগলা নদী। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে বছরের বেশির ভাগ সময় এ নদী পানি শূন্য থাকে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢলে যৌবন ফিরে পাওয়া নদী হয়ে ওঠে রাক্ষুসে রূপে। দীর্ঘ সময় পানি শূন্যতায় থাকার আক্ষেপ মেটাতে ভাঙতে থাকে নদীর দুকূল। প্রতিদিন নদীর এমন ভাঙনে নদী পাড়ের মানুষের আহাজারি বাড়তে থাকে।
এবারও বদলায়নি এ নদীর স্বভাব সুলভ আচরণ। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী মানুষ। অব্যাহত নদী ভাঙনে বদলে যাচ্ছে গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ও লক্ষীটারী ইউনিয়ন। লালমনিরহাটের গোকুন্ডা ইউনিয়ন, রাজপুর ইউনিয়ন, রংপুরের পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের অনেক গ্রাম। তিস্তা নদীর সঙ্গে এবার ভাঙন দেখা দিয়েছে ঘাঘট নদেও। গত দুদিন ধরে গঙ্গাচড়ায় ঘাঘট নদের ভাঙনে অনেক বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।
তিস্তার কোল ঘেঁষা আলমবিদিতর ইউনিয়নের চওড়াপাড়ায় দুদিনের ভাঙনে ঘাঘটে ছয়টি পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া সেখানকার নগরবন এলাকার কবরস্থানটি এখন ঘাঘটে মুখের কাছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে অনেক পরিবারকেই হতে হবে আশ্রয়হীন।
আজ রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বসতভিটা বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফসলি জমি আর জীবন-জীবিকার আশ্রয় হারিয়ে অনেকে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত দুইদিন আগে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে আবার ভাঙন ভয় তাড়া করছে ঘাঘট পাড়ে।
ভাঙনকবলিত চওড়াপাড়ায় মতিয়ার রহমান জানান, ‘মোর চোখের সামনোত আবাদি জমিগুলা, ঘরবাড়ি কত কিছু নদীত ভাঙি গেল। মেলা মাইনষের বসতভিটাও যায় যায় অবস্থা। ঘরবাড়ি যে সারে নিয়া অন্যটে যাইমেন, তারও তো টাকা লাগে। এই বানের সময় কোটে টাকা পামো। হামার তো চাইরোপাকে কপাল খারাপ। এমন করিয়ায় নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করি হামার জীবনটা চলি যাওছে।’
ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়াসহ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবগত করা হয়েছে। তারা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফোলানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া ভাঙন কবলিত পরিবার গুলোকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.