বিদ্যালয় মাঠে বালু ও পাথরের স্তুপ, নেই কোন শিক্ষার্থী ।।
স্টাফ রিপোর্টার (মিঠাপুকুর):
রংপুরের মিঠাপুকুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যায়ে নদী ভাঙ্গন রোধ ও বিদ্যালয় রক্ষার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে হরিলুটের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে মিঠাপুকুরের ঘাঘট নদীর সংগ্রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাড়ে।
নদীতে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকট আকার ধারন করেছে ভাঙ্গন। এছাড়াও, বিদ্যালয় মাঠে বালু ও পাথর স্তুপ করে রাখায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়রা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ দিলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের বালারহাট ইউনিয়নের সংগ্রামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা, সিংগের চর ও ফতেপুর নদী রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যায়ে কাজ শুরু করে। রংপুরের উষা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। কিন্তু, কাজের জন্য বালু না ক্রয় করে, নদী হতে তুলে কাজ করছেন তারা। এরসাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংগ্রামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি শ্রেণীকক্ষ নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে। তার পাশে ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই বালু দিয়েই চলছে বিদ্যালয় ও নদী রক্ষার কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উষা কনস্ট্রাকশনের পক্ষে কাজগুলো দেখভাল করছেন তাহাজুল ইসলাম নামে একজন। তিনি বলেন, ‘রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমিত নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
বালারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম লুলু, সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলম বালু উত্তোলনের কাজটি করছেন।’ কাজটি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী চাঁন মিয়া নামে একজন কর্মকর্তা। কিন্তু, তাকে সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। তারপক্ষে রয়েছে অফিস সহায়ক একরামুল হক। তিনি বলেন,‘পানি উন্নয়ন বোর্ড ইচ্ছে করলে বালু তুলতে পারে।’ মোবাইল ফোনে চাঁন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,‘ ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করতে কোথায় হতে বালু ও মালামাল সংগ্রহ করবেন, সেটা তাদের বিষয়। নদী হতে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।’
বালারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম লুলু বলেন, ‘কাজটি করতে বালুর প্রয়োজন, ঠিকাদার সেটি নদী হতে উত্তোলন করছেন। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হিসেবে কাজটি তদারকি করছি আরকি।’ সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলী বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাজটি দেখছি। এটাতো দোষের নয়। বালু উত্তোলনের টাকা সবাই পাচ্ছে।’
সংগ্রামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা পারভীন বলেন, ‘বন্যায় ভাঙ্গনের ফলে বিদ্যালয়টির অর্ধেক নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। সরকার বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে, কিন্তু, ঠিকাদার, স্থানীয় নেতা ও পাউবো কর্মকর্তারা মিলে নদী হতে বালু উত্তোলন করে কাজটি করছেন। এরফলে, ভাঙ্গন আরো তিব্র হচ্ছে। এছাড়াও, বালু ও পাথরগুলো মাঠে স্তুপ করে রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছেনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বালু উত্তোলন ও বিদ্যালয় মাঠ ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে অভিযোগ দিলেও কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। অদৃশ্য কারণে সবাই চুপ রয়েছেন।’ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সহকারী শিক্ষা অফিসার জছিজুল মন্ডল বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশ দিয়ে এসেছি। কিন্তু, তারপরও বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উষা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী হাসানুর আলম হাসান বলেন, ‘বাস্তবায়নের কাজটি আমরা করছি। নদীর যে জায়গা হতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেটি ক’দিন পরে ড্রেজিং করা হবে। মুলত. বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নেতা-কর্মীরা দেখছেন।’
উপজেলা নির্বাহি অফিসার মামুন ভূইয়া বলেন, ‘ একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা কাউকে বালু উত্তোলন করার জন্য অনুমতি দিতে পারিনা। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
