
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এরমধ্যে, যমুনেশ্বরী নদীর ১২টি ও ঘাঘট নদীর ১০টি এবং রানীপুকুর মোলংহাট এলাকায় ৫টি পয়েন্টে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসনের নজরদারী নেই। কিছুটা দায়সারা ভাব দেখাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসনে দ্বায়িত্বরত ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে রাণীপুকুর ইউনিয়নের কয়েকটি অবৈধ পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। মোলংহাট এলাকায় পুকুর হতে বালু উত্তোলন করছেন হাবিবপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনে ছেলে মিজানুর রহমান, আবু সাইদ ও আবুল কাশেম। তারা বালু উত্তোলন করে ভরাট করেছেন একটি ব্রিজের মুখ। এরফলে, সুষ্ঠুভাবে পানি নিস্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। কিন্তু, প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা তারা।
অবৈধ বালু উত্তোলনকারী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা থানা পুলিশের কাছে বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছি। ব্রিজের মুখ বন্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, পানি নিস্কাশনের জন্য নিচ দিয়ে ড্রেন করা হয়েছে।
মোলং-বলদীপুকুর রাস্তার ধারে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন পাইকান গ্রামের মৃত. হেফাজ উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক ও বলদীপুকুর মমিনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মিঠু মিয়া।
মিঠু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি দাম্ভিকতা প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে বালু উত্তোলন করছি। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন নিয়মিত এখানে আসেন, তারাই বিষয়টি ভালভাবে জানেন।
আরেক অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এনামুল হক বলেন, পুকুরের পাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই সড়কের কিছুদুর এগিয়ে গেলেই আরেকটি অবৈধ পয়েন্টে দেধারচে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শতাধীক গাড়ি বালু বিক্রি করছেন তারা।
রাস্তার ধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে পাকা রাস্তাগুলোর। এছাড়াও, বালু বহনকারী যান-বাহন চলাচল করার কাঁচা রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না।
কয়েকজন স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা বালু উত্তোলন করছেন, তারা প্রভাবশালী। এছাড়াও, প্রশাসনের লোকজন নিয়মিতভাবে পয়েন্টগুলোতে যাওয়া-আসা করেন। কিন্তু, বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি কোনদিনও।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘কয়েকটি অবৈধ পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। এরপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার।

