
নিউজ ডেস্ক:
মোসলেম বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আল-মাহমুদ। বরাবরই লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী সে। তার বোন ছেতারা আক্তারও একই বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় স্কুলে যাচ্ছে না ওরা। তাই লেখাপড়ায় মন নেই তাদের। শুধু আল-মাহমুদ ও ছেতারা আক্তারই নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীরই একই অবস্থা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরে ২৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোতে ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। করোনার কারণে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকার ফলে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা বাসায় পড়ালেখা করতে চাচ্ছে না। এর মধ্যে অনেকেই মোবাইলে গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
অভিভাবক হাজেরা বেগম বলেন, ‘মোর ছইল ইবনে হোসাইন ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় স্কুল বন্ধ হয়। ফাইনাল পরীক্ষা না হয়েই তাকে ফোরের বই দেচে মাস্টার। কিন্তুক, লেখাপড়া ঠিকমত হওচেনা। খুব চিন্তার মধ্যে পড়ি গেইচু বাহে।’ আরেক অভিভাবক রওশনুজ্জামান বলেন, ইস্কুলে লেখাপড়া করবার না পারি ছইলেরা পড়া ভুলি যাওচে। বাড়িতও পড়ব্যার বইসোছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকল কিছু খোলা আছে। খালি ইস্কুল বন্ধ থুইয়া লাভ কি?’ অভিভাবক কাওছার হাসান মুরাদ বলেন, ‘শিশুরা পড়ালেখার চেয়ে মোবাইলে খেলাধুলায় বেশি মনোযোগী। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পক্ষে।’
লোহাকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় বিমুখ হচ্ছে। ধসে পড়ার উপক্রম প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।’ মিঠাপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বাড়িতে গিয়ে সাপ্তাহিক গাইডলাইন দিয়ে আসছি। কিন্তু, বিদ্যালয়ের মতো লেখাপড়া বাড়িতে হচ্ছে না।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের কাছে বিদ্যালয় থেকে বাড়ির কাজ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অ্যাপসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।’ সূত্র: সমকাল
এম২৪নিউজ/আখতার