মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো এক কর্মচারীর করোনা সনাক্ত, লকডাউন প্রত্যাহার

স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ।।

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে, আবারও পুরোদমে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। দুই চিকিৎসক, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন যক্ষারোগের নমুনা সংগ্রহকারী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে সোমবার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো এক কর্মচারীর করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাকিম বলেন, ‘সোমবার থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কার্যক্রম চালু হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো এক কর্মচারীর করোনা পজেটিভ এসেছে। তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’

অপরদিকে চিকিৎসা সেবায় নিয়জিত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সুরক্ষা ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরী চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কর্মরত এসব কর্মচারীরা। এনিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে নিজেদের সুরক্ষায় পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোবসসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষায় এসব সরঞ্জাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি প্রতিদিন করোনা রোগীসহ সব রোগীকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। অনেক সময় করোনা রোগীদের নিজ হাতে করে এ্যাম্বুলেন্সে উঠাতে হয়। অথচ, আমাকে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। অনেক অনুনয় করেও কর্তৃপক্ষ সরঞ্জাম দেয়নি।’

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বিকাশ, রবিউল, গৌরী, নার্গিস, আলাউদ্দিন বলেন, আমরা ওয়ার্ডবয়, আয়া, ক্লিনার, নার্সসহ বিভিন্ন পদের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। চিকিৎসকসহ পাঁচজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এমন অবস্থার মধ্যে ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা জরুরী চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

তারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র একটি করে অতি নিম্নমানের ওয়ান টাইম পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোবস দেওয়া হযেছে। যা একবার ব্যবহারের পর আর ব্যবহার করা যায়না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাকিম বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদেরকে একসেট করে পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোবস দেওয়া হয়েছে। পিপিইগুলো ধুয়েও পরিধান করা সম্ভব। এগুলো নিম্নমানে নয়। এখন তাদের নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই নিতে হবে।’

এম২৪নিউজ/আখতার।