
স্টাফ রিপোর্টার:
ভাইরাসজনীত পাতা মোড়ানো রোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মিঠাপুকুরের করলা চাষীরা। কিন্তু, কৃষি দপ্তরের কোন পরামর্শ ও প্রতিকার পাচ্ছেনা অসহায় কৃষক। এরফলে বেড়েছে চাষাবাদ খরচ, কমেছে ফসল উৎপাদন। চরম ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরে ৩শ ৩০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে রাণীপুকুর, লতিবপুর, কাফ্রিখাল ও পায়রাবন্দ ইউনিয়নে করলার চাষাবাদ বেশি। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে চাষাবাদ করতে গিয়ে কৃষকদের পড়তে হয়েছে অজ্ঞাত রোগের আক্রমনে।

সরেজমিনে রাণীপুকুর এরশাদ মোড় এলাকায় গিয়ে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে করলা চাষ করতে গিয়ে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে চরম দুশ্চিন্তায়। অজ্ঞাত ভাইরাসের আক্রমন ও পাতা মোড়ানো (বাবরী) রোগে দিশেহারা কৃষক। মৌসুমে ৬ মাস ধরে ফসল তোলা গেলেও চলতি মৌসুমে একমাসও ফসল তুলতে পারেনি অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে রাণীপুকুর ও লতিবপুর ইউনিয়নে করলার চাষবাদ বেশি। ওই ইউনিয়নের আফজালপুর, মোলং, পাইকান, রাণীপুকুর, রসুলপুর ও মাঠেরহাট মাদারপুর গ্রামের কৃষকেরা করলা চাষাবাদের প্রতি বেশি আগ্রহী। প্রতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দুর-দুরান্তে করলা বিক্রি করেন তারা। কয়েকজন কৃষক জানান, সব্জির মধ্যে করলা চাষ লাভ জনক। চলতি মৌসুমে লাভতো দুরের কথা খরচও তুলতে পারেনি অনেকে।
রাণীপুকুর এলাকার কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ফসল লাগানোর কিছুদিনের মধ্যে করলা গাছে আগা অজ্ঞাত রোগে মুড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কীটনাশক দোকান হতে ওষুধ কিনে ক্ষেতে দিয়েছি। কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আরেক কৃষক সোহাগ মিয়া বলেন, রোগের আক্রমনের কারণে চরম ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি আমরা। প্রতি বছর ৬/৭ বার ফসল তুলতে পারলেও চলতি বছরে অনেকে একবারও ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। তার আগেই রোগে শুকিয়ে গেছে করলা ফসলের ক্ষেত। কিন্তু, কৃষি দপ্তর হতে আমাদের কোন খোঁজ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেন বলেন, করলা মৌসুমি ফসল। এটি চাষাবাদ করতে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ও রোগের আক্রমন হয়। কিন্তু, সঠিক সময়ে কীটনাশন ব্যবহারের ফলে ক্ষতি কমানো যায়। তিনি আরও বলেন, ভাইরাসে আক্রান্ত গাছগুলো তুলে পুতে ফেলতে হবে, নাহলে অন্যান্য গাছগুলোতে তা ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার