
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সম্পাদক মাহাবুবার রহমান মাহাবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকারী হারুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত চেয়ারম্যানের ছেলে লাবিব আহসান বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে চেয়ারম্যানের মৃত্যুর খবর পেয়ে একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম নামে এক জামায়াত কর্মী হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু বরণ করেছে বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পায়রাবন্দ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও হাজার হাজার মানুষ অংগ্রহণ করেন। এর আগে জানাজা নামাজে উপস্থিত মুসুল্লিদের উদ্দেশ্য জামায়াত নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তারা চেয়ারম্যান মাহাবুবার রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
এদিন একই মাঠে একসাথে চেয়ারম্যান মাহাবুবার রহমান এবং তার মৃত্যুর শোকে হার্ট অ্যাটাকে নিহত রফিকুল ইসলামের জানাজা একই সময় নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহত মাহাবুবার রহমান মাহাব জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি রংপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। গত ইউপি নির্বাচনে তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান মাহাবুবার রহমান দলমত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার জানাজায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ফলে তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ঘটে। বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র সংলগ্ন বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এছাড়াও পায়রাবন্দ বাজার ও রাস্তায়ও ছিল ব্যপক মানুষের ঢল।
তার জানাজা নামাজে মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান, মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজার রহমান, রংপুর জেলা জামাতের আমির গোলাম রব্বানী, সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ রংপুর, দিনাজপুর ও মিঠাপুকুর উপজেলার জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
নিহত চেয়ারম্যানের ছেলে লাবিব আহসান বলেন, বাবা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। একজন সন্তান তার পিতার আচরণ বিধি বুঝতে পারেন। বেশ কিছুদিন থেকে তার কথাবার্তায় শঙ্কা ছিল। ভয় ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার বলেন, জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে মাহাবুবার রহমান কেমন লোক ছিলেন। তিনি যে দলই করুক, ভালো মানুষের মূল্যায়ন করা সবার দায়িত্ব। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার আহবান জানান তিনি।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ, গত রবিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (ঔষধের দোকান) বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পায়রাবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান। তিনি দোকানের সামনে দাঁড়াতেই তার ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায় হারুন নামে এক ব্যক্তি। এসময় হারুন তার হাতে থাকা মাছকাটা বটি দিয়ে চেয়ারম্যানের ঘাড়ে উপর্যপুরি আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় এ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানকে মৃত ঘোষনা করেন। এদিকে হামলাকারীকে আটক করে এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পায়রাবন্দ বাজারে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান, রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) আবু হাসান মিয়া, মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান।
এসময় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা জানায়, চেয়ারম্যান জামায়াতপন্থী হওয়ায় রাজনৈতিক কারনে ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়। হামলাকারীকে বাঁচাতে পাগল উপাধি দিচ্ছে চেয়ারম্যান বিরোধি ক্ষমতাসীনরা। যতক্ষণ হামলাকারী কিজন্য হামলা করেছে এ ব্যাপারে জানাবে না, ততক্ষণ হামলাকারীকে নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। এসময় পুলিশের সামনে বিক্ষোভ করে তারা। প্রশাসনের সাথে ঘন্টা দুয়েক পাল্টা-পাল্টি তর্কবিতর্কের পর অপরাধীকে কঠিন শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে হামলাকারীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।
এম২৪নিউজ/আখতার