মিঠাপুকুরে পুলিশি বাধা পেয়েও অবাধে চলছে বালু বিক্রির মহোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭নং ইমাদপুর ইউনিয়নের ঘাঘট নদী তীরবর্তী ফসলি জমি থেকে বালু বিক্রির মহাউৎসবে মেতে উঠেছেন রিফুল নামের একজন অসাধু কারবারী। ঘাঘট নদীতীরে অন্তত ৩ একর জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিকারে বালু বিক্রি করে চলছেন তিনি। এতে নদীর পানি প্রবাহ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি জমিসহ বসতভিটা পড়ছে হুমকির মুখে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

আজ ২৪ আগস্ট বুধবার দুপুর ২ টায় বৈরাতীহাট পুলিশ ফাঁড়ীর একটি অভিযানে বালু ভর্তি ৪ টি ট্রাক্টর আটকে দিলেও পরমূহুর্তেই পুনরায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বালু খেকো রিফুল।

ট্রাক্টরের সারিবদ্ধভাবে আসা যাওয়া লম্বা লাইন দেখে যে কারো মনে হবে যেন অবৈধ ভাবে বালু বিক্রির মহাউৎসব চলছে। পাশাপাশি কয়েকজন বসন্তের কোকিলের মতো বালু উত্তোলন ব্যাবসা করেন। যত্রতত্র ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তাঘাট ও বাঁধ নষ্ট হয়ে একদিকে যেমন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে অন্যদিকে ধুলার রাজ্যে পরিনত হয়েছে।

সড়ক দিয়ে বে-পরোয়া ভাবে ট্রাক্টর চলাচল করায় দুর্ঘটনারও নজির রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী তাদের চলাচলের রাস্তাঘাট নষ্ট হওয়ায় প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোন সুফল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বালুদস্যুরা অসাধু কিছু লোকের সাথে আতাঁত করে নির্বিচারে বালু ব্যবসা করে আসছে। 

বালু বিক্রয়কারী রিফুল মিয়া বলেন, নিজের জমি থেকে বালু বিক্রি করছি এতে সমস্যার কি আছে।

৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইব্রাহীম মন্ডল জানান, একাধিকবার নিষেধ করেও কোন ফল হয়নি। এইতো কয়েকদিন আগে বালুবাহী ট্রাক্টরের নিচে পড়ে ২ সন্তানের একজন বাবা মারা গেলো।

বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে ১৭ নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ডানো বলেন, স্হানীয় মেম্বার মাধ্যমে জেনে বিষয়টি মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছি আর বালি উঠাবেনা বলে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও চোরা গুপ্তা বালি উত্তলন করছে বলে জেনেছি বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহদয়কে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন বলেন, বালু উত্তলনের ব্যাপারে আমি জেনেছি ব্যাস্ততার কারনে যাওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম২৪নিউজ/রাব্বি

Leave a Reply