
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। বিশেষ করে ইয়াবা ও হেরোইনে সয়লাব হয়ে গেছে ওই এলাকা। বেড়ে গেছে চুরি-ছিনতাইসহ অনৈতিক কর্মকান্ড। মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এছাড়াও স্থানীয় বিট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের মৃত আমজাদ মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি কয়েক বছর আগে বালারহাটে একটি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান দিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ফেডারেশন বাজার এলাকা থেকে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় জালালপুর এলাকায় তিন চোরকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের মিঠাপুকুর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

আটকরা হলেন, বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ও কুতুবপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়া। বাকী একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এসময় মাদক ব্যবসায়ী হাবিব মিয়া পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। তারা সবাই মাদক ব্যবসাসহ চুরি-ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত।
এদিকে, ওই মাদক ব্যবসায়ীর মিথ্যা মামলায় বাড়িছাড়া হয়েছে ৪ ভাই। এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, বালারহাট বাজারে চায়ের দোকান করেন বুজরুক ঝালাই গ্রামের বজলু মিয়া (৫০)। তিনি প্রায় ৩৫ বছর আগে একই গ্রামে প্রথম বিয়ে করেন। প্রথম পক্ষের ৪ জন ছেলে রয়েছে। এরপর একে এক আরও দুইটি বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তানদের ভরণ-পোষণ ও কোনো দেখভাল করেন না। এ নিয়ে ৮/১০ বছর ধরে পারিবারিকভাবে নানা কলহ চলে আসছে। সন্তানরা বড় হয়ে বাবার কাছে ভরণ-পোষণের দাবি করেন। এতে বাবা বজলু মিয়া ছেলেদের সাথে খারাপ আচরণ করেন, মারধর করেন। কারণে-অকারণে এর আগে নিজে এবং বন্ধুদের দিয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানী করে আসছেন।
সর্বশেষ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ছেলেরা বাবার চায়ের দোকানে গিয়ে ভরণ-পোষণ দাবি করছে আবারও তাদেরকে মারধর করেন পাষন্ড বাবা বজলু মিয়া। এরপর তার মামা মাদক ব্যবসায়ী হাবিব মিয়াকে দিয়ে ৪ ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করান। ওই মামলার স্বাক্ষী হন বজলু মিয়া। আসামী করা হয় আরও ৮ জনকে । ওই আসামীরাও বজলু মিয়ার শ্যালক। মামলার আসামী হয়ে তার ৪ ছেলেসহ ১২ জন পুলিশের ভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবু মিয়া ও দুলু মিয়া বলেন, ‘বাদি হাবিব ও ৪ ছেলের বাবা বজলু ভালো মানুষ নন। তারা এলাকায় কলহ বিবাদ সৃষ্টি করেন। তারা টাউটবাজ ও চিটিংবাজ লোক।’
বালারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২নং ওয়ার্ড এর সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ৪ ছেলেসহ ১২ জনের নামে যে মামলা হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলার বাদি একজন খারাপ প্রকৃতির, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। তার সাথে এই এলাকার দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশের সখ্যতা রয়েছে। একারণে সে এলাকায় দাপট দেখায়। তার বিরুদ্ধে কথা বললে মামলার হুমকি দেয়। গত রবিবার দিনদুপুরে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এসময় মূলহোতা মাদক ব্যবসায়ী হাবিব পালিয়ে যায়।’
মামলায় বাড়িছাড়া ৪ ছেলে মো. লিয়ান মিয়া লেট্টু, মো. স্বপন মিয়া, মো. রতন মিয়া ও মো. আরেফিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করার পর থেকে আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়না। তার কাছে গেলে গালাগাল করেন, ভয়ভীতি ও হুমকী দেন। মারপিটও করেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। আমারা এখন কোথায় যাই।’
মামলার বাদি হাবিব মিয়া বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা লোকজন বলেছে, তা মিথ্যা। আসামীদের ভয়ে আমি বাড়ি যেতে পারছিনা।’ বাড়িছাড়া ৪ ছেলের বাবা বজলু মিয়া বলেন, ‘ছেলেরা আমার অবাধ্য। আমাকে মারতে আসে। তাই মামলা দিয়েছি।’
মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ অস্বীকার করে বালারহাট বিট পুলিশ কর্মকর্তা টংকো ব্যনার্জি বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ওই মামলার আসামীরা ছাড়া কেউ আমার নামে এমন অভিযোগ করতে পারবেনা। অভিযোগ প্রমান করতে পারলে আমি পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিবো।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার