মিঠাপুকুরে আবাদি জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলনের উৎসব

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের আশকুরপুর চৌপাতি এলাকায় প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে দিনের পর দিন অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ছে উর্বর আবাদি জমি, বিপর্যস্ত হচ্ছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগ কেটে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট জমিই নয়, আশপাশের চাষ উপযোগী আবাদি জমিও ব্যাপকভাবে ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে। কৃষকদের ভাষ্য, জমির উপরিভাগের আদ্রর্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই জমিতে স্বাভাবিক ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা সরাসরি খাদ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় কৃষক মোখলেছুর রহমান জানায়, আনারুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এসব মাটি উত্তোলন করছেন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন।

এদিকে আবাদি জমি থেকে এভাবে মাটি উত্তোলনের কোনো বৈধ অনুমতি বা পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি না তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “আমরা কথা বললে কালই হয়তো জমিতে চাষ করতে পারব না। তাই বাধ্য হয়ে সব দেখে চুপ করে থাকতে হচ্ছে।”

ভারী ভেকু ও ট্রাক চলাচলের ফলে এলাকার কাঁচা ও পাকা সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এসব সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে, তখন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহন বড় সমস্যায় পড়বে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বড় পরিসরে প্রকাশ্যে অবৈধ মাটি উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকেরা। পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত জমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় মিঠাপুকুরের এই অঞ্চলের আবাদি জমি ও কৃষিনির্ভর জীবনব্যবস্থা স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনারুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ জানান, আমি অতি দ্রুত বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply