মিঠাপুকুরে মাটিয়াখোলার বিল নিয়ে উত্তেজনা, স্কেবেটর চালিয়ে বিনষ্ট উঠতি বোরোধান

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাটিয়াখোলা বিল নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিল সংলগ্ন সরকারী খাস খতিয়ানভূক্ত বন্দোবস্ত নেয়া জমি দখলে নিয়ে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। তারা জমির ওপর স্কেবেটর (ভেকু মেশিন) চালিয়ে উঠতি বোরো ধানক্ষেত বিনষ্ট করে দিয়েছে।

জমির ওপর স্কেবেটর (ভেকু মেশিন) চালিয়ে উঠতি বোরো ধানক্ষেত বিনষ্ট করে দেয়া হয়

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের মাটিয়াখোলা গ্রামে একটি সরকারী বিল রয়েছে। গ্রামের নামে নামকরণ হয়েছে বিলটির। বর্তমানে বিলের আয়তন ৩ একর ৩৮ শতক। বিলের চারপাশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮ একর ২০ শতক। ভূমিহীন ১১টি পরিবার ১৯৮৯ সালের দিকে বিলের ধারে আবাদযোগ্য ৮ একর ২০ শতক জমি ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত করে নেন। সেই থেকে তারা জমি চাষাবাদ করে আসছেন। প্রতি বছরই স্থানীয় ভূমি অফিস ওই বিলটি নামমাত্র টাকায় ইজারা প্রদান করে। কিন্তু, এবার এলাকার ফরিদ উদ্দিন, আসাদ মেম্বার ও মাসুদ- এই তিন প্রভাবশালী মিলে বিলটি ইজারা নিয়েছেন। তারা বিল খননের নামে ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত নেওয়া জমিও দখলে নিতে চাইছেন। এতে বাধা দেওয়া ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ওই গ্রামের আবদুস সামাদ মিয়ার নামে ১১০ শতক জমি বন্দোবস্ত দিয়েছিল সরকার। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী দুলালী বেওয়া সন্তানদেরকে নিয়ে ওই জমি ভোগদখল করছেন। এবার বোরোধান চাষ করেছেন জমিতে। ধানের ফলন হয়েছে চোখ জুড়ানোর মতো। গত শুক্রবার বিল ইজারাদাররা তার ধানের জমির ওপর দিয়ে স্কেবেটর (ভেকু) চালিয়ে দেয়। এতে দুলালীর ধানক্ষেতের ২৫ শতক জমির ধান বিনষ্ট হয়েছে।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাবা, মোর ক্যাও নাই। স্বামীধন মরি গেইচে অনেকদিন আগে। ছইলটাক নিয়ে জমি জিরাত আবাদ করি খাও। তাও এইবার আর হবার দিলোনা। ভুঁইয়ের (জমির) ধানের ওপর গাড়ি দিয়া ধান নষ্ট করি দিচে। এখন হামরা কি খায়া বাঁচমো।” এভাবে করুন স্বরে বিলোপ করে যাচ্ছেনা। শুধু দুলালী বেওয়া নয়- আবুল কালাম আজাদের ২৫ শতক, বাচ্চু মিয়ার ২৫ শতক, আবু সায়েদের ৫০ শতকসহ আরও অন্তত. ৫ বিঘা জমির ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে ভেকু যন্ত্র চালিয়ে নিয়ে যায় ইজারাদারের লোকজন। এতে ধানক্ষেত বিনষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ এর দিকে ভূমিহীন ১১ জনের নামে বিলের পাশে খাস খতিয়ানের সম্পত্তি বন্দোবস্ত দেয়। তখন থেকে তারা বিলের পানিতে মাছ ধর, নিজেরা গোসল করা, গরু-ছাগলেরও গোসল করাই। কিন্তু এবার ফরিদ উদ্দিন, আসাদ মেম্বার ও মাসুদ বিল ইজারা নিয়ে এলাকার মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে দেয়। বন্দোবস্ত নেওয়া ভূমিহীনদের জমিও দখল করে বিল করার চেষ্টা করছে। তারা স্কেবেটর দিয়ে ধানক্ষেত বিনষ্ট করে দেয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইজারাদার ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে বিল ইজারা নিয়েছি। খননের বিষয়টি সরকার দেখবে। অভিযোগকারীরা মিথ্যা বলছে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মূলত. ওই জমিগুলো বিলেরই। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কোনো কারণে তাদের নামে বন্দোবস্ত হয়েছিল। ২০১৩ সালেই বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগকারীরা অন্যায়আবে বিলের জমি দখল করে আছে। তারা অনেকেই ভূমিহীন নন। সরকারী কাজে বাধা দেওয়ায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply