রংপুরের হাট-বাজারে জনসমাগম ঘটিয়ে হকারের জমজমাট ব্যবসা, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

রংপুর অফিস:

রংপুর জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন পল্লীর হাট-বাজারের এক কোনায় একটু ফাঁকা মাঠে হ্যাচাক বাতি জ্বালিয়ে হঠাৎ বেজে ওঠে যন্ত্রসংগীত। একে একে জড়ো হতে থাকে লোকজন। কিছুক্ষণের মধ্যে ছোট মাঠ টি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। উপস্থিত লোকজনের মুখে কোন মাস্ক নেই। বালাই নেই কোন সামাজিক দুরুত্বের। বাজারে আসা প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে মাঠটিতে। যন্ত্রসংগীতের পরে শুরু কালজয়ী শিল্পীদের গাওয়া কন্ঠসংগীতের অনুকরনের গান। অনেকে খুব আনন্দ করে উপভোগ করেন গান গুলো শুনতে। এ গানের ফাঁকে হাজির হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। গান শেষে হতেই তিনি সবার উদ্দেশ্যে পরিচয় দেন আমি কবিরাজ মানুষের উপকার করাই আমার কাজ। তাই এই সকল উপকরন নিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সানাইমোড় বাজারে উপস্থিত লোকজনকে এসব কথা বলেন কবিরাজ শ্যামল সরকার।

কবিরাজ শ্যমল সরকার, গাইনি, ব্যাথা, বিভিন্ন চর্ম ও যৌন রোগ সহ সব ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। শতভাগ গ্যারান্টি দেন তার বিক্রি করা ওষুধে। অনেকে তার সরল মানুষের মন গলনো কথার ফুলঝুড়ি মনোযোগ সহকারে শুনছেন সাধারন মানুষ।

যখন গোটা বিশ্বে একটি অদৃশ্য কোভিট -১৯ ভাইরাস নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে থাকলেও এখানে উপস্থিতদের মাঝে যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই । তারা স্বাভাবিক ভাবে দলাদলি করে ওষুধ কিনছেন। করোনার প্রাদূর্ভাবের মাঝেও জেলার হাট বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে জনসমাগম ঘটিয়ে চলছে হকারদের কার্যক্রম। ফলে করোনার প্রাদূর্ভাব ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকছেই। অনেকে জনসমাগম ঘটিয়ে হকারদের কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান। এদিকে ছবিতোলার জন্য ক্যামেরা তাক করতেই অনেক সচেতন শ্রোতা কেটে পড়ে।

কবিরাজের জনসমাগমে আসা রন্জু মিঞা বলেন, গ্রাম গঞ্জে গানবাজনা নাই তাই একটু শুনলাম। কারো মুখে মাস্ক নাই শুধু আমার মুখে থাকলে কি হবে। শুনেছি করোনা রোগ আবারো বেড়েছে। তবে গ্রামে এখনো এরোগ তেমন আসে নাই। আসুক তার পর দেখা যাবে কি করা যায়।

কবিরাজের কাছে ওষুধ নিতে আসা আজম আলী জানান, গ্রামের লোক পরিশ্রম করে। করোনা রোগ ধরার কোন সুযোগ নাই। গ্রামের লোকজন করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা করে না।

আবুল কালাম বলেন, লোকসমাগম ঘটিয়ে এরকম কার্যক্রম করা ঠিক না। এতে গ্রামে করোনার প্রাদূর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে। এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।

কবিরাজ শ্যামল সরকার বলেন, আমার বাড়ী জেলার পীরগাছা উপজেলার ব্রক্ষ্রিকুন্ডা গ্রামে। আমি গরীব মানুষ কত আর বসে দিন কাটাই। আমাদেরও পেট আছে। কাজ না করলে খাবো কি?করোনার মাঝেও কাজ করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ করোনাকে ভয় পায় না। সরকারের দেওয়া নির্দেশ কেউ মানছে না।

এব্যাপারে রংপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ হিরম্ব কুমার রায় বলেন, করোনা সময়ে হকাররা হাট বাজারে যা করছে তা স্বস্থ্যবিধি লংঙ্ঘন। তাদের দৌরাত্ব থামাতে প্রত্যেক উপজেলায় সেনেটারী ইন্সেপেক্টর আছে। তাদের নির্দেশ দেয়া আছে এদের আইনের আওতায় এনে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply