
নিউজ ডেস্ক:
রংপুরের হারাগাছে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার জাল ব্যান্ডরোলসহ সরবরাহকারীর লিডারসহ চক্রের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে আরপিএমপি হারাগাছ থানার পশ্চিত পোদ্দারপাড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহ চক্রের লিডার সামা, আব্দুল জলিল, গোলাপি বেগম ও সুলতানা বেগম।
এই চক্রের আটক সদস্যরা জাল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হারাগাছ পৌর এলাকা, ভিতরকুঠি, গংগাচড়া, মর্নেয়া, দর্জিপাড়া, ডেলকোটারী, মিয়াপাড়া, ঠাকুরদাশ, বানুপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন ছোট বিড়ি কারখানায় মালিকদের কাছে সরবরাহের করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হারাগাছ থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান।
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, হারাগাছ থানার পশ্চিম পোদ্দারপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল সরবরাহের জন্য মজুদ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মূল্যের ৭ লাখ ৭০ হাজার জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করে পুলিশ।
আটকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহ চক্রের মূল লিডার আজিত বিড়ির মালিক সামাকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান আরো বলেন, লিডার সামাসহ চক্রের একাধিক সদস্যরা জেলার বাইরে জাল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন ছোট বিড়ি কারখানায় মালিকদের কাছে সরবরাহের করতো। এতে করে চক্রটি মোটা অংকের টাকা আয় করতো। অন্যদিকে নুতন বিড়ি কারখানার মালিকরা জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে তারা প্রতি বছর প্রায় কয়েক শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিতো। তদন্ত করে এই অপরাধে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার রোধে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে রয়েছে। হারাগাছসহ জেলার যে কোনো এলাকায় জাল ব্যান্ডরোল সরবরাহকারী ও ব্যবহারকারী কেউ ছাড় পাবে না।
ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ফারুক আহম্মেদ, হারাগাছ থানার ওসি একেএম নাজমুল কাদের, মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।