গঙ্গাচড়ায় খড় হিসেবে ধানখেত বিক্রি!

গঙ্গাচড়া (রংপুর) থেকে কমল কান্ত রায়:

লোকসান হওয়ায় গঙ্গাচড়ায় উঠতি আমন ধানখেত ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে কৃষকরা। আর এসব ধান কেটে বাজারে খড় হিসেবে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি গ্রামের মিন্টু নামের এক কৃষক এ বছর ৫৬ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। আর ১৫ থেকে ২০ দিন পরে ধান পাকবে। তার আগেই তিনি ৫৬ শতক জমির ধান ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি বড়বিল ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি হাটে গিয়ে দেখা যায়, এক ব্যবসায়ী এসব ধান কেটে আঁটি বেঁধে খড় হিসেবে বাজারে বিক্রি করছে। এক আঁটির দাম ১০ টাকা।

এ সময় মহাদ্দী নামের ব্যবসায়ী জানান, তারা তিন জনে মিলে ৫৬ শতক জমির ধান খেত ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘খড়ের চাহিদা থাকায় এবং ধানের দাম কম হওয়ার কারণে কৃষক ধান খেত বিক্রি করে দিয়েছেন। ’ আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহনা গ্রামের কৃষক নুরল ইসলাম বলেন, ‘৫০ শতক জমির ধান জমিতেই ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ঐ ধান কাটতে আরো ২ হাজার টাকা খরচ হতো। তার চেয়ে আগেভাগেই বিক্রি করে দিয়েছেন।’

তিনি আরো জানান, ঐ জমিতে তিনি আগাম সবজি লাগাবেন। নুরলের মতো অনেক কৃষক এখন এমন কাজ করছেন বলে উপস্থিত লোকজন বলেন।

আরো পড়ুন: রংপুরে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

গরুর জন্য ১০ টাকায় ধানের আঁটি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন আজিজুল। আলমবিদিতর ইউনিয়নে তুলসিহাটে ভ্যানে করে উঠতি ফসল ধান গাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। পাইকাররা এগুলো আঁটি করে বাজারে বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম আগাম ধান খেত বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজে দেখিনি তবে শুনেছি, কৃষকরা লাভের আশায় এসব ধান খেত আগাম বিক্রি করে দেন। তাছাড়া অনেকে আগাম অন্য ফসল বিশেষ করে আলু, মরিচ, বেগুন চাষের জন্য ধান বিক্রি করে দেন।’

Leave a Reply