
নিউজ ডেস্ক:
রংপুরের পীরগঞ্জে একাধিক পরকীয়ায় বাঁধা দেয়া এবং যৌতুকের টাকা না দেয়ায় স্ত্রী সুবর্ণা আক্তারকে (২৩) পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন মাইদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্য।
এ ঘটনায় সোমবার রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিত ওই গৃহবধূ।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ি গ্রামের মৃত আনিছার রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল পদে ২০১১ সালে যোগদান করেন। ২০১৩ সালে একই ইউনিয়নের ধুলগাড়ি গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার একমাত্র মেয়ে সুবর্ণাকে বিয়ে করেন। এখন পর্যন্ত তাদের সংসারে সন্তান নেই।
বিয়ের পর থেকেই ওই কনস্টেবল ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজশাহীতেই স্ত্রী সুবর্ণাকে কয়েকদফা মারপিট করে। এ ছাড়াও ওই কনস্টেবল রাজশাহীতে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়া করলে সুবর্ণা বাঁধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুবর্ণাকে কয়েকদফায় শারীরিক নির্যাতন করেন। এতে রাজশাহী পুলিশ লাইনে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ৩/৪ বার বিভাগীয় বিচার হয়।
একপর্যায়ে কনস্টেবল মাইদুলকে ২০১৭ সালে বরিশাল র্যাবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেও ওই কনস্টেবল একাধিক পরকীয়ায় আসক্ত হলে প্রতিবাদ ও বাঁধা দেয় স্ত্রী। ফলশ্রুতিতে সুবর্ণার ওপর নির্যাতনের খড়গহস্ত নেমে আসে।
কনস্টেবল মাইদুলের অপরাধের ব্যাপারে বরিশাল র্যাব অফিসেও ২বার সালিশ হয়। গত ২ অক্টোবর সুবর্ণাকে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন করায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে।
এ ব্যাপারে বরিশালে স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি হলে সম্প্রতি তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পাঠানো হয়।
গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কনস্টেবল মাইদুলের ছুটি শুরু হলেও তিনি তার স্ত্রীকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য বাড়িতে পাঠায়। একপর্যায়ে মাইদুল গত ১৮ অক্টোবর বাড়িতে এসে যৌতুকের টাকা না পেয়ে ওইদিন রাত ২টার দিকে তার ভাতিজা বিপ্লবসহ বেদম মারপিট করে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে।
পরদিন দুপুরে সুবর্ণার অবস্থা আশংকাজনক হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। এ সময় বড় আলমপুর ইউনিয়নের মমিন মার্কেট নামকস্থানে কনস্টেবল মাইদুল তার পথরোধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা আবারও কনস্টেবলের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের এফ-১৬ নম্বর বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সুবর্ণা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গলায় জখম দেখা গেছে।
কর্তব্যরত ডাক্তার বকুল মিয়া বলেন, এ রোগীর (সুবর্ণা) অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
চিকিৎসাধীন সুবর্ণা বলেন, আমি ওর (স্বামী) নির্যাতন সহ্য করে আসছি। আমাকে সন্তানও নিতে দেয় না। চাকরিতে পদোন্নতির কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। আরও দাবি করছে। আর কত টাকা দিব?
তিনি বলেন, ১৮ অক্টোবর ছুটিতে এসে আমাকে গভীর রাতে সে এবং তার ভাতিজা বিপ্লব যৌতুকের জন্য আমাকে মারধর করে। চিকিৎসা নিতে আসার সময়ও রাস্তার মধ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান।
ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রয়োজন হয়। আমরা নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেব। তবে অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বর্তমানে সুবর্ণার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সূত্র: যুগান্তর।