পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষনার পরেই নগরীজুড়ে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীদের দৌড় ঝাপ শুরু

|| রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন নয় পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার দাবী করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশিরা ||

রংপুর অফিস:

রংপুর সিটিকর্পোরেশনের পূর্ণাঙ্গ তফসিলের আগেই সরগরম নির্বাচনী মাঠ নগরী জুড়ে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীদের দৌড় ঝাপ শুরু হয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন রংপুর। এই সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন বিচ্ছিন্নভাবে করলে সেই উন্নয়নের সুফল নাগরিকরা পাবে না। এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণাসহ সভা-সমাবেশ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। কেউ কেউ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও স্টিকার লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার আত্মপ্রকাশ করছেন। হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এছাড়া খেলাধুলা, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয়সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন কেউ কেউ। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন শোভাযাত্রাও বের করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে কারা মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা। প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের প্রায় এক ডজন নেতা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। ২৫ অক্টোবর রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তার নাম ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। রোববার বিকেলে রংপুর কারমাইকেল কলেজ মাঠ থেকে সহস্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

এ সময় তিনি বলেন, আমার সময়ে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্ধিত এলাকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এবার কাজ করা হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং জনসেবা বন্ধ ছিল না। যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান পরিষদ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিচার বিশ্লেষণে এগিয়ে আছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসী এবারো আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

আওয়ামীলীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর মহানগরের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু ও রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ। মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল নগরবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে পোস্টার সাঁটিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র আবদুর রউফ মানিক, তরুণ ব্যবসায়ী ও সংগঠক তানবীর হোসেন আশরাফি, নারী নেত্রী সুইটি আনজুম, বাসদ থেকে আনোয়ার হোসেন বাবলু ও আব্দুল কুদ্দুস, ওয়াকার্স পার্টি থেকে কাজী মাজহারুল ইসলাম লিটন, ইসলামী আন্দোলন থেকে এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, খেলাফত মজলিস থেকে উপাধ্যক্ষ তৌহিদুর রহমান মন্ডল রাজু এবং এনপিপির শফিকুল ইসলাম রাকুর নাম শোনা যাচ্ছে।

গত ৩০ অক্টোবর দুই শতাধিক ট্রাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা করেছেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল। ভোট আমেজ শুরুর অনেক আগে থেকেই তিনি মাঠে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক করছেন।

তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, ‘চার বছর ধরে নগরবাসীর কাছে গিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরেছি। উঠান বৈঠক করে আসছি। তাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আশা করি আমাকে মনোনয়ন দিলে নগরবাসী হতাশ হবে না।

এদিকে নাগরিক দূর্ভোগ বাড়বে এজন্য চাই একজন নগরবিদ দিয়ে শত বছরের জন্য পরিকল্পনা করে উন্নয়ন করা। নগরবাসী কাঙ্খিত উন্নয়ন পাবে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশী, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক সাফিউর রহমান সফি।

পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক সাফিউর রহমান সফি বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে এখনই ভাববার সময়। কেননা আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাস যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে আমাদের যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্বজন প্রীতি ও দূর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহি মুলক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পরিকল্পিত নগরী গড়তে হবে।

রোববার বিকেলে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে তার সমর্থনে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাফিউর রহমান সফি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রংপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন করেছেন। তিনি রংপুর বিভাগ, রংপুর সিটি কর্পোরেশন, চারলেন সড়কসহ অভুতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। যে লক্ষ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়েছে সেই কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন করতে হলে আওয়ামীলীগের একজন মেয়র দরকার। তাই আর ভুলের মধ্যে না থেকে রংপুরের উন্নয়রে স্বার্থে আমাদের নৌকার মেয়র নির্বাচিত করতে হবে।

নাগরিক সমাবেশে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমাজসেবক রেজাউল করিম মুকুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও চিকিৎসক ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম, শিক্ষাবিদ বিমল কুমার রায়, গণতান্ত্রিক পার্টি রংপুর জেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নৃপেন্দ্র নাথ, বাসদ রংপুরের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, ক্রীড়া ও নাট্য সংগঠক খন্দকার আব্দুল মজিদ হিরু, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল, ইরা হক, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাহেল, কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রসিক কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রসিক কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা, রসিক কাউন্সিলর মানিক মাষ্টার, হাজিরহাট আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, পশুরাম আওয়ামী লীগের সভাপতি হারাধন রায় হারা, সাধারণ সম্পাদক মামুন উর রশীদ মামুন, হারাগাছ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, মাহিগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ তাজুল ইসলাম সরকার, মহানগর আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডভোকেট বিভুতি ভুষন সরকার সুমন, শ্রম সম্পাদক হাসানুজ্জামান নান্নু, মহানগর মহিলালীগের সভাপতি মমতাজ বেগম, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বর্ণা, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাফিউর রহমান স্বাধীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নাগরিক সমাবেশ থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের স্বার্থে নাগরিকবান্ধব সিটি কর্পোরেশন গঠনে জনবান্ধব নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নেতা সাফিউর রহমান সফিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানানো হয়। নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক, আইনজীবী ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply