
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা ছেলে আটক করেছে বদরগজ্ঞ পুলিশ।।
রংপুর অফিস:
রংপুরের বদরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের দুই দিন পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় পরাজিত নৌকা প্রার্থীর হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় মা ও ছেলে ব্যালট পেপার উদ্ধারকারি আয়শা বেগম (৩৭) ও তার ছেলে দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী রিয়াজুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর এলাকায়। ভোটে কারচুপি করে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক সরকারের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ করে তাঁর বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশের এক সহকারি উপ-পরির্দশক(এএসআই) সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে জনগনের সঙ্গে অসদাচরণ করলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে। পরে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
উল্লেখ, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামিলীগ প্রার্থী ও ৭চেয়ারম্যান পদে ৩টিতে আওয়ামী লীগ এবং ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়,গত রবিবার বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দামোদরপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আবু বক্কর সিদ্দিককে (মোটরসাইকেল) বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮হাজার ৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক সরকার। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮হাজার ৪৮। মাত্র ৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন নৌকার প্রার্থী আজিজুল হক সরকার। ভোটে কারচুপি করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করতেন।
জানাযায়, ভোট গ্রহণের দুইদিন পর ওই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর সময় এক কিশোর চারটি ব্যালট পেপার কুড়িয়ে পায়।
দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামে ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরাজিত প্রার্থী আজিজুল হক সরকারের বাড়ির সামনে তাঁর হাজার হাজার কর্মী সমর্থক জড়ো হন। তাদের দাবি, ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকার প্রার্থীকে কৌশলে পরাজিত করা হয়েছে।
এ সময় আজিজুল হকের ভাতিজা লিটন সরকার বলেন, ওই ভোট কেন্দ্রে নৌকা মার্কার প্রতীকে সিল দেওয়া বিপুল পরিমাণ ব্যালট পেপার পুঁড়ে ফেলা হয়। এ কারণে নৌকার প্রার্থী মাত্র ৪৩ ভোটে হেরে যায়। যার প্রমাণ মেলে ভোটের দুইদিন পর কেন্দ্রের বাইরে পাওয়া ব্যালট পেপার। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ভোট পুনরায় গননা করার দাবি করছি। এর মধ্যে চারটি ব্যালট পেপার উদ্ধার করে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
কুড়িয়ে পাওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধারকারি ও পুলিশের হাতে আটক শিক্ষার্থী রিয়াজুল হক বলেন,গতকাল (সোমবার) আমি বাড়ির পাশে ওই ভোট সেন্টারে পাশে বেঁধে রাখা ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য যাই। এ সময় চারটি ব্যালট পেপার দেখতে পেয়ে কুঁড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসি। পরে খবর পেয়ে লোকজন আমাকে ও আমার মাকে ধরে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসে। কারা কিভাবে ব্যালট পেপার সেখানে রেখেছে বা ফেলে গেছে তা আমরা জানিনা। এ ব্যাপারে আটক আয়শা বেগমের কাছ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আজিজুল হক সরকার বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। যার প্রমান মিলেছে ভোট শেষে বাইরে পাওয়া ব্যালট পেপার। এর আগে ওই কেন্দ্রের বাইরে বহু ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমি পুনরায় ভোট গননার দাবি করছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো বলেও তিনি জানান।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, চারটি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছি। অনেকেই বলছে কিছু ব্যালট পেপার পোড়ানো হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারি রির্টার্নিং অফিসার আজিজার রহমান বসুনিয়া বলেন, সুষ্ঠুভাবে ১০টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিভাবে বাইরে ব্যালট পেপার পড়ে ছিল তা এই মুহর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোন ভোটার হয়তো কেন্দ্রের ভেতর থেকে ব্যালট বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে গেছে। পরে হয়তো কোন এক সময় ওই ব্যালট পেপার বাইরে ফেলে দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এম২৪নিউজ/আখতার