
নিউজ ডেস্ক:
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এলাকার জনগণের পাশে নেই সংসদ সদস্যরা। রংপুর জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসনের চারজন এমপিই নিজ এলাকায় নেই। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ঘরবন্দি থাকায় হতদরিদ্র কর্মহীন পরিবারগুলো নিদারুন কষ্টে আছেন। এ সময়ে এলাকার অনেক এমপি পাশে না থাকায় ক্ষুব্ধ তারা।
করোনা পরিস্থিতিতে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের এমপি জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আলহাজ্ব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ দেরীতে হলেও এলাকায় অবস্থান করছেন। গঙ্গাচড়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সকলের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করছেন। বৃহস্পতিবার বেতগাড়ী ইউনিয়নে নিজস্ব তহবিল থেকে ২১৮ জন ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেম ও পুরোহিতকে জনপ্রতি চাল ৫ কেজি, ডাল ১ কেজি, লবন ৫০০ গ্রাম, আলু ১ কেজি বিতরন করেন তিনি।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক শুরু থেকেই তার নিজ এলাকাতেই রয়েছেন। তিনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেনতামূলক কাজসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করছেন। দু:সময়ে তাকে পাশে পেয়ে খুশি এলাকার মানুষ।
রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ এলাকায় নেই। বিশেষ করে করোনা মোকাবেলায় ঘরবন্দি খেটে খাওয়া মানুষের দুঃসময়ে এমপিকে পাশে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। ক্ষুধার জ্বলায় গত বৃহস্পতিবার সকালে লকডাউন অমান্য করে শত শত নারী-পুরুষ নগরীর দর্শনা মোড়ে পল্লী নিবাস বাসভবনে এমপির খোঁজে যায়। এসময় তারা বাসার সামনে সড়ক অবরোধ করে দুই বেলা দুই মুঠো খাবারের নিশ্চয়তার দাবি জানায়। করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় এসব মানুষ জানান, আজ পর্যন্ত এমপি সাদ এরশাদ তাদের কোনো খোঁজ নেয়নি। বাধ্য হয়েই খাদ্যের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় বিপদে আপদে গরীব অসহায় মানুষদের পাশে থাকতেন। সরকারিভাবে, ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য দিতেন। কিন্তু তার ছেলে সাদ এরশাদ এমপি হবার পর থেকে লাপাত্তা।
তবে পল্লীনিবাসের একটি সূত্র জানায়, গত ৯ এপ্রিল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাধ্যমে সাদ এরশাদ তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক হাজার ২০০ পরিবারের মধ্যে সাতদিনের জন্য চাল-ডাল, আলু ও পেঁয়াজ বিতরণ করেছেন। আগামী রবিবার এরশাদপুত্র সাদের রংপুরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের এমপি বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী করোনা পরিস্থিতিতে এলাকায় আসেননি। তবে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এলাকার দুই হাজার ৭০০ পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেছেন। তার পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা বিতরণ করেন।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের এমপি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকায় নেই। তবে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পাওয়ার যোগ্য পরিবারে ৯ মেট্রিক টন চাল ও ৯ মেট্রিক টন আলু বিতরণ করেছেন।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের এমপি জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এলাকায় না আসলেও মহামারি করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের অসহায় দুস্থদের চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।করোনা দুর্যোগে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতারা।
রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের চারজন এমপিই এই দুর্যোগের সময় নিজ এলাকায় না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা করোনা প্রতিরোধে কাজ করতে দ্বিধাদ্ব›েদ্ব রয়েছেন। এই সময়ে এমপিরা পাশে না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন বিপদের সময় এমপিদের কাছে না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ প্রসঙ্গে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, করোনাভাইরাস এমন একটি রোগ, জন সংস্পর্শ থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততটাই ভাল। এমপিরা নিজ এলাকায় না থাকলেও দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ত্রাণসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।