রংপুরে ঈদের কেনাকাটায় যানজট, ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজনকে যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। শনিবার (২৩ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় নগরবাসীর অনেকেই কেনাকাটা করতে বের হন। তখন সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

এ সময় নগরের বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য দেখা দেয়। যানজট তীব্র আকার ধারণ করলে সড়ক পারাপার হওয়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে। দুপুরে নগরের সিটি বাজারের সামনে থেকে সুপার মার্কেটের মোড় হয়ে পায়রা চত্বর এবং জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রায় প্রায় তিন কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে না থাকায় প্রধান সড়কে যানজট হচ্ছে বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ঈদের বাজারে ক্রেতারা যাতে নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারেন, এ জন্য শহরের রাস্তা যানজটমুক্ত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন এবং বৃষ্টিও হয়েছিল। শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালেও এর রেশ কিছুটা ছিল। তবে দুপুরের দিকে মেঘ কেটে গিয়ে সূর্য ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় মানুষের ভিড় বেড়ে যায়।

নিত্যপণ্য কিনতে এসে রাস্তায় আটকা পড়েন সিনথিয়া বেগম নামের এক গৃহিণী। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই মেয়ে। সিনথিয়া বেগম বলেন, ‘কেনাকাটার থেকে রাস্তায় চলাচল করার ভোগান্তি অনেক বেশি। গরমে মেয়ে দুটি অস্থির হয়ে উঠছে। যানজটে আটকা পড়ে বাড়ি ফিরে যেতে চাইছে তারা। বাজার করার থেকে বেশি ভোগান্তি হয়ে রাস্তায় আটকে থাকা।’

পায়রা চত্বরের পাশে সড়কের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাচ্চা মিয়া নামের এক চালক বলেন, ‘আমরাও তো আটকা আছি। এভাবে দীর্ঘক্ষণ আটকা থাকলে আমাদেরও আয় রোজগার কমে যায়।’

নগরের জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় চারটি সড়ক এসে মিলেছে। এ মোড়ের চারদিকেই বিপণিবিতান। এখানেও দেখা যায় সড়কের মধ্যে অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এর পাশে ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র হাড়িপট্টি, লোহাপট্টি, বেতপট্টি এলাকায় ছোট ছোট সংযোগ সড়কগুলোয় অনেক দোকান। এসব দোকানে যেতে মানুষজনকে চরম দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়।

সোহেলী চৌধুরী নামের এক নারী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, যানজটের কবল থেকে আর মুক্ত হওয়া গেল না। বেশির ভাগ সময় চলে যায় যানজটে আটকা পড়ে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরে বর্তমানে আনুমানিক ২০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা (ইজিবাইক) ও সাত থেকে আট হাজার চার্জার রিকশা চলাচল করছে। পুরো রাস্তাজুড়ে এসব যান চলাচল করার কারণে থেমে থেমে যানজট হচ্ছে।

রংপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, ‘এত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাওয়ার উপক্রম। এরপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply