রংপুরে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ১৫, জাল ভোট দিতে এসে আটক ৪

রংপুর অফিস:

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীর মধ্যে হট্টগোল থেকে ভোটকেন্দ্রে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিল লাঠিচার্জ করে। এতে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

রংপুরে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের লাঠিচার্জ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পীরগাছা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা ও ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এরআগে মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দেওয়া সময়ে দুজনকে আটক করে পুলিশ।

হট্টগোল সৃষ্টির জন্য পীরগাছা ইউনিয়ন পরিষদের আট নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী জাহেদুল ইসলামের (মোরগ প্রতীক) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ছিলাম। কখনো চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকেরা, আবার কখনো আমার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা আমাকে হেয় করে কথা বার্তা বলে। তারা আমাকে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলতে উচ্চবাচ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই জাল ভোট দিচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমি মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে সবাইকে সর্তক থেকে ভোট প্রদানের অনুরোধ করি। এ নিয়ে অন্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা আমার ওপর চড়াও হয়। পরে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন।
ভোট গ্রহণ শেষ হবার আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়াতে দুপুর আড়াইটার পর থেকে কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যায়। অনেকেই সংঘর্ষের আশংকায় ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেননি। তবে এ পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনার পর পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম, বিজিবি এবং স্টাইকিং ফোর্সের সদস্যরা ওই কেন্দ্রে আসেন। এভাবেই বেলা চারটায় শেষ হয় ভোট গ্রহণ। পরে প্রার্থীদের দেওয়া এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটগণনা শুরু হয়। বর্তমানে ওই ভোটকেন্দ্রের বাহিরে শত শত মানুষ অবস্থান নিয়ে রয়েছে। অনেকেই নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এস এম সৈকত বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা চেষ্টা করেছি। জাল কেউ দিতে পারেনি। কেন্দ্রে প্রার্থীদের ভুল বোঝাবুঝি থেকে হট্টগোল বেঁধেছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

পীরগাছার মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্র ছাড়াও ছাওলা ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময়ে মাসুদ রানা ও মামুন মিয়া দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও দু-একজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

রংপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, দ্বিতীয় ধাপে পীরগাছা উপজেলার আটটি এবং পীরগঞ্জ উপজেলার দশটিসহ মোট ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ হাজার ১০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮৭ জন, সাধারণ সদস্য ৭৫৮ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ২৫৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোথাও তেমন কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আমরা পাইনি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন করে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া দুই উপজেলায় ২ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ২ জন সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। পাশাপাশি র‌্যাবের তিনটি টহল টিম এবং ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ করছেন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply