রংপুরে শীত নিবারনে আগুন তাপাতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে সাত শিশু অগ্নিদগ্ধ

রংপুর অফিস:

শীতের আগাম দাপটে রংপুরে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ পেতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে সাত শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের বেশীর ভাগের শরীরের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

আজ বুধবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডাঃ আব্দুল হামিদ পলাশ।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাত শিশু। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২ জন অগ্নি দগ্ধ রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন সাত শিশুর শরীরের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে সকলের বয়স ১৫ বছরের নিচে।

গত বছর শীত মৌসুমে আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ১৭ জন। চলতি শীত মৌসুমে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখনও কোনো রোগীর মৃত্যু না হলেও শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে অগ্নিদগ্ধের সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

রংপুরমেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডাঃ আব্দুল হামিদ পলাশ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২ জনের মধ্যে সাত জনই শিশু। আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতা বশত তারা অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।দেখা দিয়েছে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ৩শ রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুর সংখ্যায় বেশি। জেলার গ্রামে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা এখনই শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে।শীতের কারণে নগরীর অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে শীতার্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহানী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাতাশে কাহিল হয়ে পড়েছে অনেকে। শীতবস্ত্রের অভাবে খড় কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের উত্তরে কয়েকটি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।রংপুর সহ আশ পাশের জেলা গুলোতে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি বাড়বে শীতের তীব্রতা।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply