
নিউজ ডেস্ক:
বিগত সময়ে নির্বাচনের মতোই রংপুর-৩ আসন উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোন ধরণের শক্তি প্রয়োগ বা কাউকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে কেন্দ্র থেকে ফিরতে পারে, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বা পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। আমাদের কাছে কোন কেন্দ্রের অভিযোগ আসলে এবং তা প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হবে। যতগুলো কেন্দ্রে অভিযোগ আসবে, ততগুলোই বন্ধ করা হবে।’
এসময় ইভিএম এ ভোট জালিয়াতি নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত সময় তো আপনারা ইভিএম এ নির্বাচন দেখেছেন। এনিয়ে কোন শঙ্কা থাকার কথা নয়। এটা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হওয়াতে ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটতে পারে, এর দ্রুত সমাধানে তো আমাদের বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।’ তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
আরো পড়ুন: সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ, তবুও পদোন্নতি
কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে আসে, সেজন্য প্রার্থী, মিডিয়া ও সচেতন মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা কমিশনের পক্ষ থেকে সবসময়ই চাই ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাক। এই নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের যেমন আগ্রহ রয়েছে তেমন কমিশনেরও সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।’
ইভিএম এ ফলাফল ঘোষণা করতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘আমরা নাগরিক হিসেবে আগে তো নির্বাচনের দু-একদিন পরে ফল ঘোষণা হতে দেখেছি। এখন তো তা হচ্ছে না। ইভিএম ভোট গণনা সহজ করে দিয়েছে। খুব বেশি দেরি হয় না। আমরাও চেষ্টা করি দ্রুত ফলাফল জানিয়ে দিতে। অথচ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে এখনো ভোট গ্রহণের এক দেড় মাস পর ফলাফল ঘোষণা হয়। আমাদের দেশে তো তা হয় না।’
এ সময় তিনি সকল প্রার্থীকে ও ভোটারদের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য এই আসনটিতে আগামী ৫ অক্টোবর ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার ১৭৫টি কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মধ্য থেকে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলইন।