রমেকসহ জেলার হাসপাতাল গুলোতে সাধারন রোগীর সংখ্যা কমেছে

রংপুর অফিস:

রংপুর বিভাগের অন্যতম চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ সহ জেলার হাসপাতাল এখন করোনা পরিস্থিতির আতংকে রোগী আশকাজনক হারে কমেগেছে। দ্বিতীয় বারের মতো রংপুরে করোনা অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও বিধিনিষেধ ঘোষণার পর থেকে রংপুর জেলার আট উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে সাধারন রোগীর সংখ্যা দিনদিন কমছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজহাসপাতাল এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট। এখানে প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণের মতো রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতেন।এখন রোগীর সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলছেন, বর্তমানে শুধু গুরুতর অসুস্থ রোগী হাসপাতালে আসায় অন্যান্য রোগীর চাপ অনেক কমে গেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিধিনিষেধের ঘোষণা আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনিতেই রোগীদের হাসপাতালে আসা বন্ধ হতে থাকে। বিধিনিষেধ ঘোষণার আগের দিন ৫ এপ্রিল রোববার হাসাপাতালে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন এক হাজার ৩‘শ৭৫ জন। বিধিনিষেধের প্রথম দিন সোমবার হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিলেন এক হাজার ৩‘শ৫ জন। এবং দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছে হাজারের কোটায়। আজ রোববার বিকেলে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে অন্যমত হচ্ছে ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে পুরুষ সার্জারি এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির রোগীরা ভর্তি থাকেন। এ ওয়ার্ডের বেড সংখ্যা ৫০টি। বর্তমানে রোগী আছেন ৩৬ জন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এর সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ওয়ার্ডের ইনচার্জ মুর্জিতা খাতুন বলেন, গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে রোগী ছিলেন ১‘শ৫ জন। বিধিনিষেধের কারণে রোগী কমে গেছে। নিউরোলজি, হেমাটোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, লিভার হেপাটোলজি, চর্ম ও যৌন রোগ, মানসিক এবং রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের রোগীদের জন্য ৭ নং ওয়ার্ড। ৩৯ বেডের বিপরীতে বর্তমানে রোগী আছেন ২১ জন। বিধিনিষেধের আগে রোগী ছিলেন ৫৭ জন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ মাসরুল বলেন, বিধিনিষেধের কারণে রোগীর চাপ কমেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনি) ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ২৫ শয্যার ওয়ার্ডে সবসময় রোগী পূর্ণ থাকে। হাসাপাতালের কতৃ পক্ষকে বাধ্য হয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী মেডিসিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখতে হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল হক আরো বলেন, বিধিনিষেধের কারণে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রোগী হাসাপাতাল মুখী না হওয়ায় কিছুটা চাপ কমছে। এমন অনেক রোগী আছেন যাদের চিকিৎসা আরো ১৫ থেকে ৩০ দিন পর নিলেও সমস্যা নেই- এই শ্রেণীর রোগীরা বর্তমানে হাসপাতালে কম আসছেন।

রংপুরের সিভিল সার্জ ডাঃ হিরম্ব কুমার রায় বলেন, প্রথমতো শহরে করোনা রোগীর সংখা বেশি আতংকে গ্রাম থেকে রোগীরা শহরে আসেনা এবং যানবাহন না পাওয়ার করনেও রোগীরা হাসপাতাল গুলোতে আসতে অনিহা করে বাসা বাড়িতেই চিকিৎসা গ্রহন করছে রোগীরা জেলার ৮ উপজেলা সাস্থ্যকপ্লেক্সে ভর্তি থাকছে না।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply