
নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা নোট পরীক্ষক সাধন চন্দ্র মহন্ত। এক হাজার ৫০ টাকা গড়মিলের অভিযোগে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে একই অভিযোগে চাকরিতে বহাল আছেন অন্য এক কর্মচারী। সাধন চন্দ্রের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেছেন বাবা মুক্তিযোদ্ধা রঙ্গলাল মহন্ত (৭০) ও তার পরিবার। এদিকে গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) থেকে অনশনে বসা এই অশীতিপর বৃদ্ধের কোনো খবর নেয়নি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করেছে রংপুর জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের নির্দেশে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রঙ্গলালকে হাসপাতালে ভর্তি করান। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এই মুক্তিযোদ্ধা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে অনশন স্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেন চিকিৎসকরা।
এদিকে চতুর্থ দিনের মতো রঙ্গলাল মহন্তের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার সামনে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন। তবে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যার পর খোলা আকাশের নিচে শীতের হিমেল হাওয়ায় কষ্টেই রাত কাটছে হচ্ছে রঙ্গলালের পরিবারের।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী গ্রাম থেকে ছেলের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধা রঙ্গলাল মহন্তের পরিবার। অনশনরত গত চার দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার কোনো প্রতিনিধি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
সাধন চন্দ্র জানালেন, ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে সততার সঙ্গে চাকরি করছি। হঠাৎ এক হাজার ৫০ টাকার হিসেব গড়মিলের অভিযোগে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। অথচ একই অভিযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অন্যজনকে চাকরিতে বহাল রেখেছেন। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুনতদন্ত করলে নির্দোষ প্রমাণিত হবো।
মুক্তিযোদ্ধা রঙ্গলাল মহন্ত জানালেন, সুষ্ঠু তদন্ত না করেই সাধনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ছেলেকে চোর সাজানো হয়েছে। ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ফেলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে কৌশলে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যা অন্যায়-অবিচার।
এ সময় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ছেলেকে চাকরিতে বহালের দাবি জানিয়ে রঙ্গলাল বলেন, দাবি আদায় না হলে মৃত্যুর আগে এবং পরে সকল রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা বর্জন করবো।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।