গাইবান্ধায় বিদেশ ফেরত ২৫৩ জনকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

নিউজ ডেস্ক:

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত একমাসে ৪৩৬ ব্যক্তি গাইবান্ধায় ফিরেছেন। কিন্তু এরমধ্যে মাত্র ১৮৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিদেশ ফেরত বাকি ২৫৩ ব্যক্তির কোনো হদিস এখনও পাওয়া যায় নাই। সবার প্রশ্ন তারা এখন কোথায়! এনিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তবে পুলিশ বলছে, বর্তমান কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদেশ ফেরতের হিসাব মিলবে না। কারণ অনেকে পাসপোর্টে গাইবান্ধায় স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ৩১১ জন। এর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ১৮৩ জন এবং বিদেশি ৯ জন।

সুত্রটি আরও জানায়, ৩১১ জনের মধ্যে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭২ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। ফলে বর্তমানে বিদেশ ফেরতসহ ২৩৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৩৬ ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলায় এসেছেন। এর মধ্যে খুঁজে খুঁজে ১৮৩ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। কিন্তু অবশিষ্ট বিদেশ ফেরত ২৫৩ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদেশ ফেরতদের প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, ঠিকানা অনুযায়ী খুঁজে পাওয়া না গেলে ভাল। কিন্তু অনেকে গাইবান্ধার কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে থাকলে তা হবে বিপদজনক। এমনটা ঘটে থাকলো মানুষের আরও ব্যাপক ক্ষতি করবে। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা দরকার।

এদিকে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একাধিক সুত্র জানায়, ঢাকাস্থ পুলিশের এস বি শাখা থেকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের তালিকা গাইবান্ধায় পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকা প্রতিটি থানায় পাঠানো হয়েছে।

থানা পুলিশ গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। যাদেরকে নিজ বাড়িতে পাওয়া যায়, তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। বাকিদের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি।

সুত্রটি আরও জানায়, তাই বর্তমান কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদেশ ফেরতের হিসাব মিলবে না। কারণ অনেকে পাসপোর্টে গাইবান্ধায় স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তারা অনেকে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে থাকতে পারেন। এই বিষয়টিও সন্ধান করা হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদেশ ফেরতদের সন্ধানে বিভিন্ন থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় কাজ করতে গিয়ে পুলিশ বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলায় লিফলেট মাইকিং ও পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং প্রতিটি থানায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত. সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিুল্লাপুর গ্রামে গত ১১ মার্চ এক বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশি অংশ নেন।

এই অনুষ্ঠানে আমেরিকা থেকে আসা দুইজন আত্মীয় নিমন্ত্রণে আসেন। তারা ওই বাড়িতে ১১, ১২ ও ১৩ মার্চ অবস্থান করেন। দুই আমেরিকা প্রবাসি ১৪ মার্চ বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ খেয়ে ১৫ মার্চ গাইবান্ধা শহরের খাঁ পাড়ায় আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। বিয়ে উপলক্ষে ১১ মার্চ থেকে ওই বাড়িতে দুই আমেরিকা প্রবাসিসহ ৫০ জন আত্মীয়-স্বজন কয়েকদিন অবস্থান করেন।

এরপর তাদের অনেকে ২১ মার্চ গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট দেন। এরমধ্যে আমেরিকা প্রবাসি দুইজনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তাদের দুইজনকে গত রবিবার থেকে গাইবান্ধা শহরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসা ১০০ জনকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে জেলায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।