
অনলাইন ডেস্ক:
কুমিল্লায় রেলক্রসিং অতিক্রমকালে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় স্বামীর পর তার স্ত্রীও মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত অপর দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় নিহত হন সিএনজি যাত্রী জেলার দেবিদ্বার উপজেলার গজারিয়া গ্রামের ফরিদ মুন্সী (৫০) ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৪৫) এবং আহতরা হলেন নিহতের মেয়ে কলেজছাত্রী আঁখি আক্তার (১৬) ও ভাগিনা সিএনজি চালক রাকিবুল (২৫)। আঁখি আক্তারকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। দু’জনের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেন শাসনগাছা রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করছিল। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তা অতিক্রম করতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন সিএনজির চালকসহ ৪ জনকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এদের মধ্যে ফরিদ মুন্সীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুপুরে নিহত ফরিদ মুন্সীর বড় ভাই আবু তাহের মুন্সী জানান, ছোট ভাই ফরিদ মুন্সী অসুস্থ ছিল। সকালে ডাক্তার দেখাতে স্ত্রী-কন্যাসহ কুমিল্লা শহরে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার ভাই মারা যান। পরে তার স্ত্রী, কন্যা ও সিএনজি চালক ভাগিনাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মহাসড়কের দাউদকান্দি এলাকায় যাওয়ার পর ফরিদ মুন্সীর স্ত্রী পেয়ারা বেগম মারা যান। অপর দুইজনকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত দম্পতির কন্যা আঁখি আক্তারকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ৪ জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদ মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানতে পেরেছি ঢাকা নেওয়ার পথে ফরিদ মুন্সীর স্ত্রীও মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার