বিজয়ের দিনে বীর শহিদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জাতি উদ্যাপন করল মহান বিজয় দিবস। দেশের মানুষ নত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাল দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসা শত-সহস্র কণ্ঠে মিশে ছিল বিজয়ের আনন্দ এবং দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারসহ উগ্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করার দাবি।

করোনার ভয়কে জয় করে বুধবার মুখরিত হয়ে উঠেছিল স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। নিজের জীবন বাজি রেখে যারা বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, সেই বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে হাজারো মানুষ। ফুলে ফুলে ছেয়ে গিয়েছিল বাঙালির অহংকার জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে ৪৯তম বিজয় দিবসের কর্মসূচি সূচিত হয়। ভোর ৬টা ৩৬ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষেও শহিদ বেদিতে ফুল দেওয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে। সকাল ৭টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ। ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের।

আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, মাহাবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান প্রমুখ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহিদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এছাড়া বিভিন্ন দল ও সংগঠনের মধ্য শ্রদ্ধা জানাতে আসে জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় পার্টি-জেপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, বাসদ, জাসদ, গণফোরাম, কৃষক লীগ, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, এফবিসিসিআই, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাব ও বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম।

জাতীয় পার্টি-জেপির শ্রদ্ধা :বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পার্টি-জেপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। এরপর দলের পক্ষ থেকে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, এজাজ আহমেদ মুক্তা, সাবেক এমপি রুহুল আমিন, সৈয়দ সালাহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সহসাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব মঞ্জু, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক জীবনকৃষ্ণ বৈরাগী, জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি এনামুল ইসলাম রুবেল, জেপি নেত্রী সোমায়া সালাম প্রমুখ। পরে বাদ জোহর মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সুত্র: ইত্তেফাক অনলাইন

এম২৪নিউজ/আখতার