
অনলাইন ডেস্ক:
ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) উপাচার্যকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৬০ কোটি চাঁদা দাবির মামলায় বাংলাদেশ জাতীয় বঙ্গলীগের প্রেসিডেন্ট শওকত হাসান মিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শওকত। আসামি ও বাদী পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
আসামি পক্ষে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম ও বিউটি আক্তার। পিএইচপি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউআইটিএস’র পক্ষে জামিনের বিরোধিতায় শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান ভুইয়া, অ্যাডভোকেট মো. জোবায়ের হোসেন ও অ্যাডভোকেট রোমেসা পারভীন।
চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ২ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানায় শওকতকে প্রধান আসামি করে মামলা (নম্বর-২(১)২০) করেন ইউআইটিএসের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোস্তফা কামাল। এদিকে চাঁদার ঘটনায় পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
এ মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েই লাপাত্তা হন শওকত হাসান। আদালত তাকে ৬ সপ্তাহের জামিন দেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অদ্যাবধি নিম্ন আদালতেও আত্মসমর্পণ করেননি তিনি। গ্রেফতারের চেষ্টার মধ্যে গতকাল আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
জানা গেছে, একই মামলার আসামি শওকতের অন্যতম ক্যাডার এসএম মাহমুদ হাসান ৬ মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থেকে সম্প্রতি নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী স্থানীয় দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি দিয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য সাক্ষী ও ভুক্তভোগী ইউআইটিএসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মানের ঘটনা সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য ও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্ধি নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে শওকত হাসানে বিরুদ্ধে ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি জালিয়াতির মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চার্জশিট দিয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শওকত হাসানের মালিকানাধীন গুলশানের বারিধারা এলাকায় অবস্থিত ‘জামালপুর টুইন টাওয়ার-২’ ভাড়া নিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে ইউআইটিএস। এরইমধ্যে ভাটারা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ হলে ২০১৯ সালের মে থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর শুরু হয়। ইউআইটিএস’র উপাচার্যও স্থায়ী ক্যাম্পাসে অফিস শুরু করেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শওকত হাসান ও তার ক্যাডাররা উপাচার্যের কাছে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা ছাড়াও মালামাল স্থানান্তরে বাধা দেন। এ বিষয়ে ২০ নভেম্বর ২০১৯ ভাটারা থানায় একটি জিডি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সবশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে এসে ইউআইটিএস’র উপাচার্যের গাড়ি আটকে ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন শওকত হাসান। চাঁদা না পেয়ে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতিও দেখান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।