হারিয়ে যাইনি বরং ভাইরাস হয়ে চেপে বসেছি: আসিফ

নিউজ ডেস্ক:

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর বিগত কয়েক বছর ধরে অসংখ্য গান প্রকাশ করেছেন। গানগুলোতে নানা রঙে ঢংয়েও হাজির হয়েছেন। সবশেষ এ গায়ক নায়ক রূপে ধরা দিয়েছেন। কিন্তু বিদায়ী বছরের শুরুতে বলেছিলেন একশো ত্রিশটি গান প্রকাশ করবেন তিনি। কিন্তু তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন আসিফ। গেল বছরে একশো একটি গান গেয়েছেন তিনি। কেন বাকী গানগুলোর কাজ সম্পূন্ন করতে পারেননি তার ব্যখ্যাও দিয়েছেন আসিফ নিজেই। 

ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এর কারণ হিসাবে আসিফ জানান, গতবছর একশো ত্রিশটা গান গাওয়ার কথা থাকলেও গেয়েছি একশো একটা। তবে এই নিয়ে অনুতাপ নেই। বছরব্যাপী মিউজিক ভিডিও’র ব্যস্ততা আর বছর শেষে গহীনের গান নিয়ে প্রচার প্রচারনায় সময় দেয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে।

সামনের পরিকল্পনা সম্পর্কে এ গায়ক বলেন, আমাদের সঙ্গীতের জগতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না, তাই যথাসম্ভব অনেক বেশী গান রেকর্ড করে যেতে চাই। আমি না থাকলেও যেন গান থেকে যায়, পরে সময় থাকলে শুনে নিয়েন, কেউ ভিউ বিষয়ক চাপ নেবেন না প্লীজ।

বর্তমান সময়ের গানের বিষয়ে আসিফ বলেন, চটুল ধারার গান প্রযোজকদের ব্যবসায়িক কারণে পছন্দ বেশী। অনেকের ভালো লাগেনা তাই মন্তব্য করার সময় এরিস্টটলের মত ভাব চলে আসে। ইন্ডাস্ট্রিেতে বিশটা বছর ধরে রেখেছি নিজের বুদ্ধি পরিশ্রম মেধায়, সঙ্গে ছিলেন একঝাঁক কুশলী। যেখানে অর্থনীতির ব্যাপার সেখানে আঁতলামী চলেনা, তবুও চেষ্টা করেছি সুন্দর কথা সুরের গান করতে।

ক্যাসেট সিডির স্বর্নযুগ শেষে হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে হীরার টুকরার মতো উপদেশ দেন অমুককে দিয়ে সুর করান, তমুককে দিয়ে গান লেখান। অমুক আর তমুক ভাইয়েরা এখন গান করছেন না কিংবা পারছেন না, আমি কি করতে পারি! এখানে বাজেটের ব্যাপার আছে, দশ টাকার এমবি লোড করে কোটি টাকার উপদেশ প্রদানকারীদের আমরা অহেতুক বুজুর্গান হিসেবে ধরে নেই। ক্যাসেট সিডির স্বর্নযুগ শেষে প্রজন্ম এখনো বাংলা গান গেয়ে যাচ্ছে এটাইতো বিরাট ব্যাপার। বাইরে থেকে দাবা খেলায় বুদ্ধি দেয়া খুব সহজ, নিজে বসলে টের পাওয়া যায় কাহিনীটা। অভিনন্দন তারুণ্য।

নিজের সম্পর্কে আসিফ বলেন, ও প্রিয়া হিট হবার সময় কারো বুদ্ধির কাজ লাগেনি, আপন গতিতে চলেছে। তখনো প্রিয়া এবং আমাকে নিয়ে সঙ্গীতের অনেক বুজুর্গ নেগেটিভ মন্তব্য করেছেন, আজ তারা নিজেরাই অনন্ত অবসরে। এখন নাকি ভাইরালের যুগ চলছে, কয়েকজন আলোচনা করলেই ভাইরাল তকমা লেগে যায়। আমি ২০০১ সালের ভাইরাল আইটেম, হারিয়ে যাইনি বরং ভাইরাস আসিফ হয়ে চেপে বসেছি।

যোগ করে আরো বলেন, আলোচক সমালোচক সবাইকে নিয়ে চলছি, আর যারা জ্বলতে চায় তাদের জ্বালাচ্ছি স্বজ্ঞানে। আমি ফাইটার আর্টিস্ট, তরুণদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছি এখনো। আমার আগে পরে অনেকেই ওয়াকওভার দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছেন, আমি আল্লাহর রহমতে সব উইকেটকে শেষ উইকেট মনে করে ব্যাটিং করে যাচ্ছি, চলবে।

এদিকে পহেলা জানুয়ারির প্রথম ঘণ্টায় গান প্রকাশ করেছেন আসিফ। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা পার হতেই ম্যাক্স ব্যাগ এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেল থেকে গানটি প্রকাশ করেন তিনি। ‘লালটিপ’ শিরোনামের গানে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন কলকাতার জেমি ইয়াসমিন। 

গানটির সুর করেছেন শ্রী প্রীতম। সংগীতায়োজন করেছেন জে কে মজলিশ। ‘লালটিপ’ গানে মডেল হয়েছে সুপ্ত ও জারা তায়রা। হাবিব রহমানের কোরিওগ্রাফিতে গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছেন সৌমিত্র ঘোষ ইমন।