ইউপি নির্বাচন: মিঠাপুকুরে বিদ্রোহীদের কারণে কোনঠাসা নৌকার প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে সপ্তম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারী। নির্বাচনকে সামনে বিদ্রোহীদের চাপে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থীরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দুই গ্রুপের নেতারা বেচে বেচে তাদের পক্ষের দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের প্রচারে মাঠে নেমে পড়েছেন। এ কারণে, নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়নে বেশ বেকায়দায় আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থীরা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার ১৭ ইউনিয়নেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি গ্রুপ বিদ্যমাণ রয়েছে। তারা আলাদাভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে। একটি নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান। অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার। ইউপি নির্বাচনে দুটি গ্রুপের মধ্যে ভাগাভাগি করে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে ১০টিতে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কয়েকটি ইউনিয়নের রয়েছে একাধীক বিদ্রোহী প্রার্থী। এদেরমধ্যে, রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা।

খোড়াগাছ ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম। ভাংনী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা কামরুল হাসান। লতিবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, আ’লীগ নেতা ইদ্রিস আলী মন্ডল। চেংমারী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আ’লী নেতা রেজাউল কবির টুটুল এবং শওগদ আলী। ময়েনপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নেতা ছামছুল আলম ও মনজুরুল ইসলাম লেলিন। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন ও সোহরাব হোসেন। বড়বালা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাহেব সরকার। দূর্গাপুর ইউনিয়নের আ’লীগ নেতা রবিউল ইসলাম। বড় হযরতপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রুস্তম আলী মন্ডল ও মির্জাপুর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ সর্দার।

স্থানীয় আ’লীগের দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা ও ইউনিয়নের অনেক নেতা নৌকা প্রার্থীদের পাশে নেই। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার কয়েকটি ইউনিয়নের নৌকা প্রার্থীদের পথসভায় যাচ্ছেন।

অপরদিকে, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টু মিয়াও গিয়েছেন হাতেগোনা কয়েকটি ইউনিয়নের পথসভায়। নেতাদের পছন্দতম প্রার্থী ছাড়া কেউ নৌকার পাশে ভিড়ছেন না। এরকাণে, ১৭ ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা বেশ বেকায়দার রয়েছে।

লতিবপুর ইউনিয়ন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেয়ামুল হক মন্ডল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী মন্ডল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। কিন্তু, এবারে নৌকা না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।’

বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লোটাস পাইকার বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নৌকা পাশে নেই আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। উপজেলা ও ইউনিয়নের কোন নেতা আমার পথসভায় অংশগ্রহন করেনি। আমি তাদের সাথে অনেক যোগাযোগ করেছি।’

সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও রংপুর জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নগুলোতে সমন্বয় কমিটি করেছি, তারা কাজ করছেন। তারপরও কেউ যদি আমাদের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে, সেখানেও নেতা-কর্মী পাঠানো হবে।’

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা বলেন, ‘যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও, যে সমস্ত নেতাকর্মী নৌকার বিরুদ্ধচারণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply