
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রবিবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তালা লেগে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার পতনের পর থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত এসব জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে রয়েছেন। বিরোধীদের কোনঠাসা করে অনিয়ম, দূর্নীতি,ক্ষমতার অপব্যবহার করায় নিজ কার্যালয়ে না আসায় ভোগান্তি এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগন। যদিও অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বাড়ি থেকে নিয়মিত সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসলে তারা নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন।
গোপনসূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা জনপ্রতিনিধিরা রবিবার (১৮-আগষ্ট) সকালে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি বিভিন্ন দলের সমর্থক এবং সেবা বঞ্চিতরা জানতে পারলে, অনুপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়া এইসব পলাতক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সকাল থেকে বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিরা কর্মস্থলে আসেননি।
এসময় কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং ইউপি সচিব উপস্থিত না হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্থানীয়রা যুক্ত হয়ে, ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ৮ নং চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদ, ১২ নং মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ১৪ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১৫ নং বড় হযরত পুর ইউনিয়ন পরিষদে তালা লাগিয়ে দেয়।
এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক পদ্ম এবং তার ছেলে জিল্লুর রহমান স্বপনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী মন্ডলের বাড়িতেও বিক্ষোভকারীরা পৌঁছান বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া অবধি ২ নং রানীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরেও হট্টগোল চলছে।
ইউপি কার্যালয়ের পরিস্থিতি এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরু জানান, আমার অফিসে আগুন লাগায় বসার পরিবেশ নেই। আমি অফিসিয়ালি সমস্ত কার্যক্রম পালন করছি। অফিস কক্ষ ঠিক হলেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হবে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনী সহ পুলিশ সজাগ রয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের সচিবগণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে জনগণ তালা লাগিয়েছে বলে জানিয়েছেন। দেখি, তাদের দাবি কি? সবার সঙ্গে পরামর্শ করে জনগনের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার