
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে জীবিত বাচ্চাকে মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। গর্ভপাত ঘটনার পর নবজাতকের একটি হাত কেটে ফেলতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় নবজাতকের দরিদ্র পিতা পড়েছেন বিপাকে। দোষীদের শাস্তিও দাবী করেছেন উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চিথলী রামপুরা গ্রামের আইনুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ চিথলী রামপুরার আইনুল ইসলামের গর্ভবতী স্ত্রী আইনুন্নাহার এর সমস্যা দেখা দিলে মিঠাপুকুরের থানার সামনে অবস্থিত আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান পরীক্ষা করানোর জন্য। সেখানে আইনুন্নাহারের আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। আলট্রাসনোগ্রাম করেন ডা. আহসান কবীর রনি। এ সময় তিনি আইনুন্নাহারের বাচ্চা পেটেই মারা গেছে বলে জানান এবং মিঠাপুকুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে রিপোর্ট দেন। এ সময় তিনি প্রসূতির জীবন রক্ষায় দ্রুত গর্ভপাত ঘটানোর পরামর্শ দেন।
কেউ কেউ মিঠাপুকুরে স্থানীয় ধাত্রীর সহায়তায় গর্ভপাত করানোর কথা বললেও আইনুল আইনুন্নাহার দম্পতি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং গর্ভ পাতের জন্য জানালে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপোর্ট দেখতে চাইলে তারা মিঠাপুকুরের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট দেখান। রিপোর্ট দেখে রমকের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বাচ্চা বের করার জন্য ব্যবস্থা নেন এবং ১২ মার্চ বাচ্চাটিকে বের করার চেষ্টা করেন। এসময় বাচ্চাটির নড়াচড়া টের পেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত প্রসূতি আইনুন্নাহারকে অপারেশন থিয়েটারে নেন এবং সিজারিয়ানের মাধ্যমে জীবিত বাচ্চা প্রসব করান। এসময় উপস্থিত চিকিৎসকগণের মধ্যে উল্লাস করতেও দেখা গেছে।
পরবর্তীতে বাচ্চাটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান শিশুটির একটি হাত কেটে ফেলতে হবে। আইনুল-আইনুন্নাহার দম্পতির মধ্যে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
অপারেশনের ব্যয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা। নবজাতকের বাবা আইনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাক্তারের ভুল রিপোর্টের কারণে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।’
আলট্রাসনোগ্রাম করানো ডা. আহসান কবীর রনি বলেন, ‘ওই সময় যে অবস্থায় পেয়েছি সেই রিপোর্ট দিয়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘কমদামি মেশিনের কারণেও রিপোর্ট ভুল হতে পারে।’
আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে কর্মরত লোকজন কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। মালিক নেই বলে তারা পাশ কাটিয়ে যান। তবে, কে বা কারা মালিক পক্ষ তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কোন লাইসেন্স কিংবা আবেদনও নেই।‘
এম২৪নিউজ/আখতার